মহাত্মার 'ভারত ছাড়ো'-র সঙ্গে আদৌ কি মিল আছে মমতার আন্দোলনের
১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর পর ফের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক, এবার বিজেপিকে ভারত থেকে তাড়ানোর ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৪২ সালে 'ইংরেজ ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। ১৯৪২ সালের ৯ই অগাস্ট থেকে এই আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট গোয়ালিয়র ট্যাঙ্ক ময়দানে মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলনের ডাক দিয়ে নিজের ভাষণে বলেন "করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে"।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু যখন ১৯৮২ সালে তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজকে দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছিলেন, ঠিক সেময়েই ৮ই অগাস্ট ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। অবশ্য এই আইন অমান্য আন্দোলনে ডাক দেওয়ার পরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জাতির জনকের এক ডাকে সেসময়ে দেশজুড়ে সংঘবদ্ধ হয় যুবসমাজ। পিছিয়ে ছিল না এই রাজ্যেও। বাংলায় ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শহিদ হয়েছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। সরকারি হিসেব অনুযায়ী মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রাণ গিয়েছিল ৯৪০ জন, প্রায় ১৭০০ জন আহত হন ও ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে জেলে যেতে হয়েছিল।

ভারত স্বাধীন হয়েছে সত্তর বছর হতে চলল। এই ৭০ বছরে দেশে অনেক কিছুই পাল্টেছে। বলা যেতে পারে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, আন্তর্জাতিক মহলে কোনঠাসা করেছেন পাকিস্তানকে, এমনকী চিনের ক্রমাগত হুঁশিয়ারিকেও পাত্তা দিতে রাজি নন, ঠিক সেসময়েই দেশের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি যখন একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতাদখল করছেন তখন বিজেপিকেই দেশ থেকে তাড়ানোর আন্দোলনে নামলেন মমতা। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তাঁর বিজেপি ভারত ছা়ড়ো আন্দোলনের ডাক রীতিমত চমকে দেওয়ার মতই। ২০১৯ শে বিজেপিকে উৎখাত করতে ইতিমধ্যেই তৃণমূল সহ ১৮টি দল একজোট হয়েছে, আগামী দিনে এই জোটের ক্ষমতা আরও বাড়বে বলেই আশাপ্রকাশ করেছেন মমতা। আপাতত বিজেপির বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের রূপরেখা তিনি কীভাবে তৈরি করেন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications