বহিষ্কৃত নেতাকে মঞ্চে বসিয়ে সভা মন্ত্রীর! তৃণমূলের দলীয় কোন্দলে নেতৃত্বের রাশ কি আলগা,জল্পনা তুঙ্গে
বহিষ্কৃত নেতাকে মঞ্চে বসিয়ে সভা মন্ত্রীর! তৃণমূলের দলীয় কোন্দলে নেতৃত্বের রাশ কি আলগা,জল্পনা তুঙ্গে
দিন কয়েক আগে হুগলি জেলায় তৃণমূলের কমিটি ঘোষণা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (kalyan banerjee)। সেই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে হুগলিতে। এরই মধ্যে ঘোষণা করে বহিষ্কার করা নেতাকে নিয়েই সভা করতে দেখা গেল রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তকে। বহিষ্কৃত নেতা বসেছিলেন সভার মঞ্চে। মন্ত্রী তাঁকে বেশ কিছু দায়িত্বও দেন। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তৃণমূলে (trinamool congress)সবই কি লোক দেখানো।

দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার সোনা শীল
শুক্রবার দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীল নামে বাঁশবেড়িয়ার তৃণমূল নেতাকে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। হুগলির তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব জানিয়েছিলেন, ওই নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। তৃণমূলের কেউ যেন ওই নেতার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখেন বলেছিলেন, হুগলির তৃণমূল সভাপতি।

অভিযুক্তকে অভিযোগ জানায়নি দল
অন্যদিকে বাঁশবেড়িয়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর অরিজিতা শীলের স্বামী সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীলের দাবি ছিল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী , তাই তাঁকে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেও দল নিরুত্তর বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

মন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে বহিষ্কৃত নেতা
মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ সত্যরঞ্জন ওরফে সোনা শীলকে আর্থিক অনিয়ম ও দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেছিলেন হুগলিতে তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব। শুক্রবার ৬ নভেম্বর তিনি বলেছিলেন, সোনা শীলের সঙ্গে দলের কেউ যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। অথচ রবিবার সাহাগঞ্জ ডানলপ মাঠে বিজয়া সম্মিলনীতে মঞ্চে দেখা যায় সোনা শীলকে। নতুন পদাধিকারী-সহ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতারাও ছিলেন মঞ্চে। সেই সভায় মন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু কল দরকার। সত্যরঞ্জনকে বলছি সব দেখে তাঁকে বিস্তারিত জানাতে। পুরসভাকে তিনি টাকা দিয়ে দেবেন, ওই টাকায় কাজ হবে।

বহিষ্কৃত নেতা দায়িত্ব পাওয়ায় প্রশ্ন
বহিষ্কৃত নেতা কীভাবে মন্ত্রীর কাজের দায়িত্ব পান তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, দল যাঁকে দলবিরোধী কাজ ও আর্থিক অনিয়মের জেরে বহিষ্কার করেছে তাঁকে মন্ত্রী কীভাবে কাজের দায়িত্ব দিতে পারেন? তাহলে কি পিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি কমিটি, কিংবা বহিষ্কার সবটাই নাটক। রাজ্য বা জেলা নেতৃত্বকে উপেক্ষার সাহস কীভাবে পেলেন হুগলির মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি নিচুতলায় উপরমহলের রাশ কি ক্রমেই আলগা হচ্ছে?

হুগলি তৃণমূলের নতুন জেলা কমিটি নিয়ে বিতর্ক
হুগলি জেলা কমিটি ঘোষণায় তৃণমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। অনেক নেতা-কর্মীই নন্দীগ্রাম যেতে প্রস্তুত। তাঁদের সাফ কথা, শুভেন্দু অধিকারী তাদের দলের নেতা, তাঁর সভায় যেতে দল তো নিষেধ করেনি। আর জেলা ও ব্লক কমিটিতে দুর্নীতিবাজরা ঠাঁই পাওয়ায় সিঙ্গুরের বিধায়ক-সহ অনেকেই অসম্মানিত বোধ করে দলত্যাগের কথা ভাবছেন।












Click it and Unblock the Notifications