বাংলায় মুসলিমদের অবস্থা করুণ! সংখ্যালঘু দফতর এবং কমিশনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতাকে চিঠি অধীরের
পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) সংখ্যালঘুদের (minorities) অবস্থা করুণ। সেই বিষয়টি নিয়েই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান বলে চিঠির (letter) শুরুতে উল্লেখ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস
পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) সংখ্যালঘুদের (minorities) অবস্থা করুণ। সেই বিষয়টি নিয়েই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান বলে চিঠির (letter) শুরুতে উল্লেখ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। তিনি বলেছেন, রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্রেও সংখ্যালঘুদের জন্য মন্ত্রক কিংবা দফতর রয়েছে। প্রতিবছরই সেখানে মুসলিম (muslim) সংখ্যালঘুদের কল্যাণে প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রাজ্যের সংখ্যালঘু কমিশনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন
অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া চিঠিতে বলেছেন, রাজ্যে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য সংখ্যালঘু কমিশন রয়েছে। সংখ্যালঘু কমিশনের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় নজর রাখার কথা। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ভালোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার কথা। তিনি বলেছেন, জনপ্রতিনিধি এবং অন্য সবার সঙ্গে আলোচনার পরে উঠে আসা প্রস্তাবই সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য রাখা হয়। তবে তিনি গত ৫ বারের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে সংখ্যালঘু কমিশন ডাকেনি কিংবা তাঁর কাছ থেকে প্রস্তাব চায়নি।

রাজ্যে সংখ্যালঘু দফতর এবং কমিশনের অবস্থা খারাপ
এদিন অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন ওপরের ঘটনা থেকেই পরিষ্কার রাজ্যে সংখ্যালঘু দফতর এবং রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের অবস্থা খারাপ।

উন্নয়ন হয়নি মুর্শিদাবাদের
অধীর চৌধুরী বলেছেন, তিনি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেই মুর্শিদাবাদের ৭০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। সেই কারণে মুসলিমদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি জানেন। এই মুর্শিদাবাদ রাজ্যের মধ্যে পিছিয়ে পড়া। অর্থাৎ এই জেলায় উন্নয়নের অভাব রয়েছে। তারপরেই তিনি অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার মুসলিমদের উন্নয়নে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নিয়ে অভিযোগ
অধীর চৌধুরী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, মুর্শিদাবাদে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গড়ে উঠেছে তাঁর চেষ্টায়। কিন্তু রাজ্য সরকারের থেকে সমর্থনা না পাওয়ায় প্রকল্পের রূপায়ন ভালভাবে হচ্ছে না। ক্যাম্পাস বড় হলেও, সেখানে উন্নয়নমূলক কোনও কাজ হচ্ছে না। সেই কারণে মুসলিম সংখ্যালঘুরা ব্যাপক সংখ্যায় চাকরি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে জেলার বড় অংশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষের দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যায়। তারা বেশিরভাগই কর্মে পটু, তাঁরা অন্য শহরের উন্নয়নে হাত লাগাচ্ছে কিন্তু রাজ্যের জন্য নয়। বর্তমানে দেশের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা দক্ষ মুসলিম শ্রমিক সরবরাহ করছে।

সংখ্যালঘুরা এখনও প্রান্তিক
অধীর চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছেন, যদিও তাঁর সরকার রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে ১০ বছরের বেশি সময়, তাও সংখ্যালঘুরা রাজ্যে প্রান্তিকই রয়ে গিয়েছে। তাঁরা সমাজে অবহেলিত। তাঁরা এখনও শিক্ষা, সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নজরের দাবি করেছেন অধীর চৌধুরী।












Click it and Unblock the Notifications