মমতার ধাপ্পাবাজি ধরে ফেলেছে বাংলা! সাগরদিঘিতে হারের রিপোর্ট নিয়ে কটাক্ষ অধীরের
সাগরদিঘির উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে তৃণমূলের হার নিয়ে কটাক্ষ করে অধীর চৌধুরী বলেন, নাচতে না জানলে উঠোন ব্যাঁকা।
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জেতা আসন হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। তারপর থেকেই হার নিয়ে উদ্বিগ্ন তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি কমিটি গড়ে হারের কারণ পর্যালোচনা করে রিপোর্ট পেশ করতে বলেছেন। সেই রিপোর্ট পেশ হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী।

তৃণমূলের হার নিয়ে কটাক্ষ অধীরের
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ও সব পর্যালোচনা করে কিছু হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাপ্পাবাজি ধরে ফেলেছে বাংলা! সাগরদিঘির উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে তৃণমূলের হার নিয়ে কটাক্ষ করে অধীর চৌধুরী বলেন, নাচতে না জানলে উঠোন ব্যাঁকা। এখন তৃণমূলের এই কমিটি গঠন ও হারের কারণ খতিয়ে দেখা নিয়ে এই প্রবাদ বাক্যটাই মনে হচ্ছে।

ভোট লুট, তৃণমূলের অহংকারকে জবাব
এদিনই সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের কমিটি একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। অধীর চৌধুরী সেই রিপোর্ট প্রসঙ্গে বলেন, তৃণমূলের বিরোধিতা করে সাগরদিঘির মানুষ ভোট দিয়েছে,। সাগরদিঘির মানুষ ভোট লুট, তৃণমূলের অহংকার আর লাগামছাড়া দুর্নীতিকে এবার মান্যতা দেয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগ্য জবাব সাগরদিঘির
অধীর চৌধুরী আরও বলেন, সাগরদিঘির মানুষ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাপ্পাবাজি প্রতারণাকে ধরে ফেলেছে। তাই সাগর দিঘির সমস্ত সাধারণ মানুষ এবার উপনির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসকে ভোট দিয়েছেন। এটা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগ্য জবাব।

বিরোধীদের নতুন রাস্তার সন্ধান দেবে
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এ প্রসঙ্গে মনে করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী সাগরদিঘির উপনির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। তারা সাগরদিঘির মানুষকে ভোট দেওয়ার সাহস দিয়েছে। ফলে মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। তার ফলে তৃণমূল হেরেছে এখানে। ভোট ঠিকঠাক হলে তৃণমূল হারবেই। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এই হার একটা জবাব। তৃণমূলের এই হার বিরোধীদের নতুন রাস্তার সন্ধান দেবে।

সংখ্যালঘু ভোটে বাম-কংগ্রেসের থাবা
সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্র মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানে ৬৮ শতাংশ ভোট সংখ্যালঘু। এমন কেন্দ্রে তৃণমূলের হারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে পড়ে, তবে কি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক মুখ ঘুরিয়ে নিতে শুরু করেছে তৃণমূলের থেকে। তৃণমূল মুখ কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও বিজেপির অনৈতিক জোটের দিকে আঙুল তুললেও তারা অশনি সংকেত দেখছে সংখ্যালঘু ভোটে বাম-কংগ্রেস থাবা বসানোয়।

কংগ্রেস সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়ে বাজিমাত করেছে
সাগরদিঘি নিয়ে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তৃণমূলের কমিটি তাতে উল্লেখ করা হয়েছে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ধসের কথা। সেখানে বলা হয়েছে, ভোটের ফলে দেখা যায়, তৃণমূলের দখলে থাকা সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়েই কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস জয়ের পথ মসৃণ করেছেন। অর্থাৎ কংগ্রেস সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়ে যে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে, তা মেনে নিয়ে তৃণমূলের 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি'।












Click it and Unblock the Notifications