মোদীকে চটাবেন না বলে কর্নাটকে ভোটপ্রচারে যাননি, মমতাকে ধান্দাবাজ বললেন অধীর
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীকে চটাতে চান না। তাই তিনি কর্নাটকে ভোটপ্রচারে যাননি। মমতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁকে ধান্দাবাজ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না তিনি।
অধীর চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, কর্নাটকে ভোটের প্রচারে কেন গেলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? উনি নাকি বিরোধী দলগুলিকে এক করতে চান? উনি গোয়া, মেঘালয়, ত্রিপুরাতে গিয়ে বিজেপিকে সাহায্য করেছেন। এখনও আপনার হুঁশ ফেরেনি। তিনি এখনও মনে করছেন বিজেপিকে সাহায্য করা দরকার।

তাই তিনি জেডিএসের ডাক সত্ত্বেও যাননি কর্নাটক নির্বাচনের প্রচারে। তিনি মুখে বিজেপির বিরুদ্ধে একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের ডাক দিলেও, কাজে তিনি করে চলেছেন উল্টোটা। তিনি বিজেপিকে সাহায্য করে চলেছেন একের পর এক রাজ্যে। আসলে তিনি ধান্দাবাজ, মোদীকে কিছুতেই চটাতে চান না!
অধীর চৌধুরী এদিন এক চিঠি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, বাংলাকে নিয়ন্ত্রণের করার জন্য কেন্দ্রীয়মন্ত্রীদেরকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিনি এমন কোনো চিঠি দেখাতে পারবেন না। সেই মর্মেই তিনি কেন্দ্রকে লেখা চিঠি প্রকাশ করেন।

অধীর বলেন, ভোটের আগে মুর্শিদাবাদ জেলাতে এসে ওয়াকফ বোর্ড এবং এনআরসি গল্প তৈরি করছেন। নির্বাচনের আগে এনআরসি বা নাগরিক আইন প্রয়োগের গল্প দিদি এবং মোদী ফাঁদবেন সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির লক্ষ্যে। যত ভোট আসবেন, তত নাগরিক আইনের কথা আলোচনা হবে। এটা পরিকল্পিত।
অধীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোকাবাবুকে পিছন থেকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য উড়ে এসেছেন, সঙ্গ দিচ্ছেন। আজকে নবজোয়ারে খোকাবাবুকে মদত দিতে মুখ্যমন্ত্রী আসছেন, তা নিয়ে আমাদের কোনো কথা নেই। আমরা জানি, খোকাবাবু মানে মমতা, মমতা মানে খোকাবাবু।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে হারে মিথ্যা ভাষণ দিয়ে চলেছেন, মানুষকে যেভাবে মিথ্যা ভাষণে আকৃ্ষ্ট করছেন, সেখানেই আমাদের প্রতিবাদ। সেই জায়গা থেকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, ভাঙন নিয়ে সঠিক বিবৃতি দিন। মালদহ থেকে শামসেরগঞ্জে ভাঙন নিয়ে আমরা কিছু করিনি, তা ভুল। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, যখন ভাঙনে হাজার ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে, মন্দির মসজিদ গঙ্গাবক্ষে ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে, তখন দিদি কোথায় ছিলেন? আজকে ভাঙন নিয়ে মিথ্যাচার করছেন।

অধীর বলেন, দিদির এখন সংখ্যালঘুদেরকে নিয়ে চিন্তা। দিদি এখন সবাইকে ঠিক রাখতে চাইছেন। জয় শ্রীরামও বলবেন, আল্লাহু আকবার বলবেন। দিদি, ন্যায্য কথা বলুন, ন্যায্য পথে চলুন। মানুষ সবই বুঝতে পারে। আপনি যে দু-নৌকায় পা দিয়ে চলছেন, তা প্রকট হয়ে যাচ্ছে।
অধীরের কথায়, আপনি যদি বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় আনার প্রয়োজন করেন তাহলে কর্নাটকে ভোটে নির্বাচনী প্রচার কেন গেলেন না? কেন মেঘালয়ে বিজেপিকে সাহায্য করলেন, কেন গোয়া-ত্রিপুরাতেও একই খেলা খেললেন? এখন আপনার হুঁশ ফিরেছে, বলছেন বিরোধীরা এক হওয়া দরকার।












Click it and Unblock the Notifications