অধীরের দুর্গ ভেঙে খান খান, ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে জয়ের উল্লাস শুভেন্দুদের
ফাঁকা মাঠে গোল করেই তৃণমূলের উল্লাস। আবির মাখামাখি, নেতৃত্বের অভিনন্দন বর্ষণ, উচ্ছ্বাসের শেষ নেই তৃণমূলে। সেটা আবার কোথায়? খাস অধীর চৌধুরীর গড়ে।
ফাঁকা মাঠে গোল করেই তৃণমূলের উল্লাস। আবির মাখামাখি, নেতৃত্বের অভিনন্দন বর্ষণ, উচ্ছ্বাসের শেষ নেই তৃণমূলে। সেটা আবার কোথায়? খাস অধীর চৌধুরীর গড়ে। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রথম দফার রাজত্বেও কেউ আঁচড় কাটতে পারেনি অধীরের সাম্রাজ্যে। কিন্তু এবার অধীরের দুর্গ ভেঙে খান খান।

সৌজন্যে শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সংকল্প করেছিলেন অধীর চৌধুরীর গড় বহরমপুরেই তাঁকে হারাবেন। সেই জয়ের প্রথম ধাপ হিসেবে এই জেলা পরিষদ দখলকে ব্যাখ্যা করছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু কংগ্রেস থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগ নেতৃত্বের অভিমত, এটা কি অধীরকে হারানো হল, নাকি পেশীশক্তির জয় হল?
ভোট এখনও বহুদূরে, তার আগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরই যে ছবি দেখা দিল মুর্শিদাবাদে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জার বলেই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক মহলের। শনিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেদিনই মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের দখল নিয়ে নিল তৃণমূল। অধীর চৌধুরীর গড়ে ৭০টির মধ্যে ৪৮টি জেলা পরিষদ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিল তৃণমূল।

শুধু ৪৮টি জেলা পরিষদ নয়, ২৬টির মধ্যে ১৬টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ২৫০টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ১৬০টি গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটের আগেই দখল হয়ে গিয়েছে। এবার এই জেলায় ছটি ব্লকে কোনও ভোটই হবে না। তা নিয়েই বেশি উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। ভোটের আগেই অধীর চৌধুরীকে জেলা ছাড়ার করার কথা ঘোষণা করেছিল তৃণমূল, এটা তার প্রথম ধাপ।
কংগ্রেস শিবিরের ব্যাখ্যা, এভাবে প্রশাসনকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে জয় হাসিল করার পিছনে কী গৌরব রয়েছে। ক্ষমতা থাকলে ভোটের লড়ে দেখাক তৃণমূল। সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন করুক। মুর্শিদাবাদের মানুষ জবাব দিয়ে দেবে, তাঁরা কার দিকে রয়েছেন। জেলা কংগ্রেস সভাপতি আবু তাহের বলেন, ভোটই হল, না আর ভোটের বিজয় উল্লাস করছে। এ ঘটনা গণতন্ত্রের লজ্জা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে ক্ষমতার বড়াই করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এক মাঘে শীত যায় না, সময় এলেই ওঁরা বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল!












Click it and Unblock the Notifications