সংগঠনই ভোটের ভাল ফল এনে দেয়! তৃণমূলের নেতৃত্ব কার হাতে, প্রশ্ন অধীরের
সংগঠনই ভোটের ভাল ফল এনে দেয়! তৃণমূলের নেতৃত্ব কার হাতে, প্রশ্ন অধীরের
কংগ্রেসের (congress) সরকারে যোগ দেওয়া, কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার তৈরি করা, কংগ্রেসের যুব নেত্রী থাকার সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) কাছে কংগ্রেস ভাল হলেও, এখন তারা খারাপ হয়ে গিয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের পর হঠাৎ কেন কংগ্রেস খারাপ হয়ে গেল তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। তৃণমূলের নেতৃত্ব আদৌ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

সংগঠন দুর্বল বলেই হার
এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, সংগঠনের দুর্বলতার কারণে হার কংগ্রেসের। তিনি বলেছেন, সংগঠন করতে গিয়ে মার খেতে হচ্ছে। এছাড়াও পঞ্চায়েত ভোটের পাশাপাশি পুরভোটও করতে দেওয়া হয়নি। দলের দুর্বলার সঙ্গে লুট, তৃণমূল ও পুলিশের সন্ত্রাসের কারণেও হার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অধীর চৌধুরী আরও বলেছেন, এই ভোটে তৃণমূল জিতবে, তা সবাই জানে। জমানত টিকিয়ে রাখাই কঠিন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, উপনির্বাচনের পল সাধারণত সরকারের পক্ষেই যায়। তিনি বলেছেন, হার জেনেও তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সংগঠন থাকলেও ভোট পাওয়া যায়
দিনহাটা ও গোসাবায় তৃণমূলের রেকর্ড ভোটে জয়, অন্যদিকে খড়দহে বামেদের লড়াই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, সেখানে সংগঠন ছিল বলে লড়াই করতে পেরেছে। যেমন কংগ্রেস সামসেরগঞ্জে সংগঠনের জেরে লড়াই করতে পেরেছিল। কিন্তু ভোট লুট তারা ঠেকাতে পারেননি। অন্যদিকে সিপিএম-এর ভোট পাওয়া নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মমতাকে নিশানা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তৃণমূল যেভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, কংগ্রেস সেভাবে করছে না। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, সময়টা দেখতে হবে। তৃণমূল এই অভিযোগ করতে শুরু করেছে ৬ সেপ্টেম্বর এবং তার পর থেকে। তিনি বলেছেন, ৬ সেপ্টেম্বর ইডির দফতরে ভাইপো যাওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস খারাপ হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসকে হঠাৎ করে খারাপ লাগছে কেন, তা খুঁজে বের করতে হবে। অধীর চৌধুরী বলেছএন, ২০ অগাস্ট সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের সময় কংগ্রেসকে ভাল গেলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেছেন, তৃণমূল এখন চালাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর আর দিদির ভাইপো।

মমতা ও মোদীকে নিশানা
এদিন অধীর চৌধুরী পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস এবং ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন আন্দোলনে নেই, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এইসব জিনিসের দাম যত বাড়বে, ততই লাভ বাড়বে মোদী ও দিদির। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, মোদীজি বিদেশে গিয়ে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর দিদি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মোদীজির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু বাজারে কেন আগুন, তা নিয়ে কেউ কোন কথা বলছেন না। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা না বলে এখন সিএনজি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের শাসনের সময়ে বিশ্বে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১৪৭ ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু এখন সেই দাম না হলেও দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। বাংলা তথা দেশের মানুষের পকেট কাটা নিয়ে বাংলার দিদি আর দেশের দাদা চুপ, মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবাদ হবে
চুপি চুপি লোকাল ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোথাও তা দ্বিগুণ এবং কোথাও তা তিনগুণের মতো। এব্যাপারে অধীর চৌধুরী বলেছেন, তুঘলকি সরকার চলছে। তিনি রেলের সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি বুঝে নিয়ে প্রতিবাদে নামবেন। তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপরে যাতে আর্থিক বোঝা না চাপে তার জন্য কংগ্রেস সংসদের বাইরে ও ভিতরে আন্দোলন করছে এবং করবে।












Click it and Unblock the Notifications