মমতা ‘কাজ’ দিলে প্রাণ বাজি রাখতেও রাজি অধীর! ভিডিও বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা
মমতার কাছে ‘কাজ’ চাইছেন অধীর! ভিডিও বার্তায় প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর বরাবরই অহিঃনকুল সম্পর্ক। সম্প্রতি লোকসভার দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন তিনি। কিন্তু প্রায় নিয়ম করে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে দেখা যায়। এবার খানিক উল্টো সুর শোনা গেল অধীরের গলায়।

অধীরের উদ্যোগ
করোনা ভাইরাসের আবহে পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া পর্যটক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসা করতে যাওয়া পরিবারদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে সম্প্রতি অধীর চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার ও অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরকেও চিঠি লেখেন।

অধীরের প্রস্তাব
এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একেবারেই ভিন্নরকম এক প্রস্তাব দিলেন অধীর চৌধুরী। সেই প্রস্তাবে লুকিয়ে থাকতে পারে নেপথ্য অনেক কারণ। লুকিয়ে থাকতে পারে কটাক্ষও। অধীর মমতাকে উদ্দেশ্য করে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য কাজে লাগাতে পারেন।

মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন
অধীর বলেন, আমি বাংলা থেকে নির্বাচিত বিরোধী দল কংগ্রেসের এক সাংসদ। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী যা বলবেন, আমি কথা দিচ্ছি তা প্রাণপণে করব। আমাকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন। ভিডিও বার্তায় কোনও রাখঢাক না করে খোলাখুলিও তিনি এই প্রস্তাব দেন।

সখ্যতার কথা অধীরের
তাঁর এহেন প্রস্তাবের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যে অধীর চৌধুরী দিনরাত মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেন, তাঁর মুখে কেন এ ধরনের সখ্যতার কথা। তবে কি ২০২১-এর লক্ষ্যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন। তাঁর হাইকম্যান্ডের এমনই কি কোনও নির্দেশ রয়েছে?

কী বার্তা দিতে চান অধীর
রাজ্যে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে লড়বে কংগ্রেস, তা প্রায় চূড়ান্ত। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড তৃণমূলকে অন্য কোনও বার্তা দিতে চাইছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনার সূত্রপাত ঘটাল অধীর চৌধুরীর এহেন মন্তব্য। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিচ্ছেন তাঁকে দায়িত্ব দিতে।

ট্রেন ভাড়া প্রসঙ্গে
রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ সোজা চোখে দেখছে না এই প্রস্তাবকে। অধীর আবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনের ভাড়া গুণতে হবে বলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সরকার চাইলে সরকারি কোযাগার থেকে সেই ভাড়ার টাকা মেটাতে পারে। যদিও ইতিমধ্যে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী শ্রমিকদের ট্রেনের ভাড়া তাঁরা মেটাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

সাদা চোখে অধীরের প্রস্তাব
করোনা ভাইরাসের এই কঠিন পরিস্থিতিতে অধীরের প্রস্তাবকে সাদা চোখে ভাবা যেতেই পারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের জন্যই এই সকল প্রস্তাব দিয়েছেন অধীর। তবু এর মধ্যে ভবিষ্যৎ কোনও পরিকল্পনা থাকতে পারে। কেননা রাজনীতির লোকেদের মধ্যে রাজনীতির ছোঁয়া থাকবে না একেবারেই তা কী হয়! এক্ষেত্রেও বোধহয় তা নয়!












Click it and Unblock the Notifications