মমতার তৃণমূলকে কি সমর্থন করবেন অধীর! ভোট ফুরোতে না ফুরোতেই জল্পনার জবাব
মমতার তৃণমূলকে সমর্থন করবেন অধীর চৌধুরী! জল্পনা জিইয়ে দিলেন তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা
সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করছে প্রদেশ কংগ্রেস। কিন্তু সেই জোটে আইএসএফের অন্তর্ভুক্তি সমীকরণে জট পাকিয়ে দিয়েছে খানিকটা। অনেক কেন্দ্রে সিপিএম-কংগ্রেসের মধ্যেও বনিবনা হয়নি। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে তৃণমূলকে সমর্থনের কি কোনও সম্ভাবনা রয়েছে? প্রশ্নের উত্তরে সম্ভাবনার বার্তা দিলেন অধীর চৌধুরী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি সমর্থন করতে পারে কংগ্রেস?
বুধবার প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি সমর্থন করতে পারে কংগ্রেস? সেই সম্ভাবনার কথা জিইয়ে রেখে অধীর চৌধুরী বলেন, রাজনীতি আসলে সম্ভাব্যতার শিল্প। আর বর্তমান সময়টা কাল্পনিক প্রশ্নের নয়। আমাদের সংযুক্ত মোর্চা এখন নবান্ন দখলের স্বপ্ন দেখছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেলে কোথায় যাবেন?
অধীর চৌধুরী উল্টে জবাব দেন, সংযুক্ত মোর্চা যখন ক্ষমতা দখলে অগ্রণী, তখন সংযুক্ত মোর্চাকে কারা সমর্থন করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেলে কোথায় যাবেন, জানি না। এমনও হতে পারে সংযুক্ত মোর্চা যখন নবান্ন দখল করতে যাচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বাঁচার জন্য সংযুক্ত মোর্চার সঙ্গী হলেন।

পলিটিক্স ইজ দ্য আর্ট অফ পসিবিলিটিজ, বলছেন অধীর
কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, পলিটিক্স ইজ দ্য আর্ট অফ পসিবিলিটিজ। অর্থাৎ সমস্ত সম্ভাবনাই ঘটতে পারে। তাই আগাম কিছুই বলা যায় না। বর্তমান নিয়ে ভাবাই শ্রেয়। সেই কারণেই সংযুক্ত মোর্চাকে জয়ের পথ দেখানোই অধীর চৌধুরীদের লক্ষ্য বর্তমানে। অন্যরা যা ভাবছে ভাবুন। ভোটের পরেই দেখা যাবে।

তৃণমূল সুপ্রিমোর আবেদনকে কংগ্রেস নৈতিক জয় দেখছে
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে সোনিয়া গান্ধী-সহ বিজেপি বিরোধী সমস্ত দলকে চিঠি লিখেছেন। একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই আবেদনকে কংগ্রেস নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে। অধীর বলেন, তৃণমূল নেত্রী কথায় কথায় বলতেন, কংগ্রেসকে মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন তিনিই কংগ্রেস সভানেত্রীকে চিঠি লিখছেন।

বিজেপির মোকাবিলা করতে কংগ্রেস এখনও ভরকেন্দ্র
অধীর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হার স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক হার হয়েছে কংগ্রেসের কাছে। তাঁর নৈতিক হারে প্রমাণ হল শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, সারা ভারতে সাম্প্রদায়িক বিজেপির মোকাবিলা করতে কংগ্রেস এখনও ভরকেন্দ্র। সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সরাসরি কংগ্রেসকে সমর্থনের বার্তা দিলেন অধীর
অধীর বলেন, বাংলার নির্বাচনে এখনও যাঁরা তৃণমূল করছেন, তাঁদের বলব দেখতে হলে মন্দির দেখুন, কেউ পাণ্ডাদের দেখবেন না। অর্থাৎ তিনি সরাসরি কংগ্রেসকে সমর্থন করার বার্তা দিলেন। বলতে চাইলেন তৃণমূলকে সমর্থন নয়, কংগ্রেসকে সমর্থন করুন। দিদির স্বপ্ন বাস্তায়িত করুন। কেননা দিদি সেটাই চান।

দিদির স্বপ্ন বাস্তায়িত করতে কংগ্রেস করুন
অধীর চৌধুরী মনে করেন, দিদির স্বপ্ন বাস্তায়িত হবে তৃণমূলীরা সবাই কংগ্রেস করলে। কংগ্রেস সুপ্রিমোর কাছে চিঠি লিখে তৃণমূল সুপ্রিমো যে আর্জি জানিয়েছেন, তা কংগ্রেসকে সুপিরিয়র বলে মেনে নেওয়ারই সামিল। তাই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আবেদনকে কংগ্রেস নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে।

ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে, মিউজিয়াম-মন্তব্য মনে করালেন অধীর
অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূল নেত্রী একটা সময়ে কথায় কথায় বলতেন, কংগ্রেসকে মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন তিনিই কংগ্রেসের শরণে আসতে চাইছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে। একদিন কংগ্রেসকে নিয়ে যা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের ভবিষ্যৎও তেমনটা দেখে ভয় পাচ্ছেন।

মমতা-বিরোধী বলে রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত অধীর
অধীর চৌধুরী চিরকালই মমতা-বিরোধী বলে রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত। সীমিত ক্ষমতা নিয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে চলেছেন। তাঁকে নিয়ে তৃণমূলের যে সব নেতারা বিজেপি-যোগের তত্ত্বকথা শোনাতেন, তাঁরা আজ বিজেপিতে গেলেও অধীর চৌধুরী এখনও কংগ্রেসেই রয়ে গিয়েছেন।

কংগ্রেসকে ভেঙে ছত্রখান করেছিল, আজ কংগ্রেসকেই প্রয়োজন হচ্ছে
অধীর জানেন, দিল্লিতে কংগ্রেস বা কংগ্রেসের হাইরম্যান্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলে। বিজেপি বিরোধিতায় কংগ্রেস সবাইকে এক মঞ্চে আনতে চায় বলেই তাঁদের এই পন্থা নিতে হয়। কিন্তু রাজ্যে তাঁরা তৃণমূল-বিরোধীই এখন ২০১১ সালে তৃণমূল এই কংগ্রেসকে নিয়েই রাজ্যে পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু তারপর কংগ্রেসকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। এবং কংগ্রেসকে ভেঙে ছত্রখান করে দিয়েছিল। কিন্তু আজ কংগ্রেসকেই প্রয়োজন হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications