অধীরের রাশ আলগা কংগ্রেসে! প্রদেশ যুব সভাপতি নির্বাচনে পেলেন অবাক হারের স্বাদ
অধীরের রাশ আলগা কংগ্রেসে! প্রদেশ যুব সভাপতি নির্বাচনে পেলেন অবাক হারের স্বাদ
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর রাশ কি ক্রমেই আলগা হচ্ছে কংগ্রেসে! প্রদেশ যুব সভাপতি নির্বাচনে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতার হারের পর সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে। প্রথমত মুর্শিদাবাদ হাতছাড়া হয়েছে, তারপর প্রদেশ কংগ্রেসের রাশও আলগা হতে শুরু করেছে। সেই কারণে তাঁর মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে উঠে এসেছেন বিরোধী গোষ্ঠীর এক নেতা।

যুব সভাপতি নির্বাচনে অধীর ঘনিষ্ঠের হার
প্রদেশ যুব কংগ্রেসের নির্বাচনে হেরে গেলেন অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ প্রার্থী শাহিনা জাভেদ। শাহিনা জাভেদ হারলেন আজহার মল্লিকের কাছে। আজহার সোমেন অনুগামীদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে রয়েছেন। আর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু হলেও তাঁর গোষ্ঠীকোন্দল কিন্তু মেটেনি। গোষ্ঠীকোন্দল থেকে বেরিয়ে তারা এক হতে পারেনি। তা প্রতিফলিত হল যুব সভাপতি নির্বাচনে।

যুব কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন অনলাইনে
প্রদেশ কংগ্রেসের যুব সভাপতি পদে অধীর-ঘনিষ্ঠ শাহিনা জাভেদ বনাম সোমেন-অনুগামী বৃত্তের আজহার মল্লিকের মধ্যে লড়াই হয়। ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হল আজহার। এদিন যুব কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন হয় অনলাইনে। জুন মাসে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ফলপ্রকাশ হওয়ার কথা ছিল অগাস্ট মাসে। কিন্তু এতদিন ফলপ্রকাশ স্থগিত ছিল।

শেষপর্যন্ত জয়টিকা আজহার মল্লিকের কপালে
শনিবার প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ফলাফল প্রকাশিত হয়। এই ভোটের ফলে দেখা যায় ৩৯ হাজার ১২১টি ভোট পেয়েছেন আজহার। আর শাহিনা পেয়েছেন ৩১ হাজারের কিছু বেশি ভোট। উভয়ের টক্কর হয়েছে কাঁটে কা। শেষপর্যন্ত জয়টিকা উঠেছে আজহার মল্লিকের কপালে। শাহিনাকে জেতাতে সবরকম চেষ্টা করেছেন অধীর চৌধুরী। কিন্তু জয় অধরাই রয়ে গিয়েছে।

সদস্য সংখ্যায় জল মিশিয়ে ভোটে জিততে চেয়েছিলেন অধীর
অভিযোগ উঠেছে, অধীর চৌধুরী বহিরাগতদেরও সদস্যপদ দিয়ে ভোট করিয়েছেন। মুটে-মজুরদের দিয়েও ভোট করানো হয়েছে। প্রদেশ যুব কংগ্রেসের হাজার পঞ্চাশেক সদস্য ছিলেন, সেখানে এবার সদস্য সংখ্যা রাতারাতি বেড়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি হয়ে যায়। কী করে তা হল, সেই প্রশ্ন ছুড়ে দেয় একাংশ। অভিযোগ, অধীর অনুগামীরা এই সদস্য সংখ্যায় জল মিশিয়ে ভোটে জিততে চেয়েছিলেন।

একটা জেলাকে কেন্দ্র করে দলটা চালান অধীর
অধীর চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নিজের ঘনিষ্ঠ নেত্রীকে জেতাতে পারলেন না। প্রদেশ যুব সভাপতির নির্বাচনের অধীরপন্থী প্রার্থীর হেরে যাওয়াটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেও মূলত মুর্শিদাবাদকেন্দ্রিক রাজনীতি করেন। কখনই তিনি গোটা রাজ্যকে নিয়ে ভাবেন না। শুধু একটা জেলাকে কেন্দ্র করে তিনি দলটা চালান। আর এই হার সেই ফলশ্রুতিতে। এর ফলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবেও তিনি চাপে পড়ে গেলেন।












Click it and Unblock the Notifications