সিপিএমের সঙ্গে জোট নয়, আসন্ন পুরভোটে একলা চলো নীতি কংগ্রেসের! ঘোষণা অধীরের
কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে আপত্তি বাম-শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের। সিপিএমকে তা নিয়ে হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে আপত্তি না থাকলেও সিপিএম বাম শরিকদের হারাতে চায় না।
কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে আপত্তি বাম-শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের। সিপিএমকে তা নিয়ে হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে আপত্তি না থাকলেও সিপিএম বাম শরিকদের হারাতে চায় না। তাই শনিবার পর্যালোচনা বৈঠক শেষে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট সম্ভাবনা খারিজ করে দিলেন অধীর চৌধুরী।

জোট নয় আসন্ন পুরভাটে একা লড়বে কংগ্রেস
শনিবার বামফ্রন্টের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খারিজ করে একা লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে দলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এদিন বিধান ভবনে বৈঠক ডেকেছিলেন তিনি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেন, জোট নয় আসন্ন পুরভাটে একা লড়বে কংগ্রেস।

এককভাবে লড়াই, সব আসনেই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস
অধীর চৌধুরী বলেন, কলকাতা ও হাওড়ার সব আসনেই আমরা প্রার্থী দেব। সেই কারণেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, একলা চলার। কর্মীদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন অধীর চৌধুরী ও কংগ্রেস নেতৃবর্গ। অধীর চৌধুরী বলেন, আমাদের সঙ্গে জোট নিয়ে কারও কোনও কথা হয়নি। তাই আমরা জোট নিয়ে কোনও কথাই বলব না। শুধু এটুকু বলব, এককভাবে লড়াই করতে কলকাতা ও হাওড়া জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর বামেদের সঙ্গে জোট হবে না কংগ্রেসের?
হাওড়া ও কলকাতায় একলা চলার বার্তা দিলেও বাকি পুরসভা ভোটে বা অদূর ভবিষ্যতে যে আর বামেদের সঙ্গে জোট হবে না কংগ্রেসের, সে কথা স্পষ্ট করে বলেননি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনও ক্ষেত্রে আসন সমঝোতা হতে পারে। জেলাস্তরে আলোচনার পর কেউ যদি স্থানীয় ক্ষেত্রে জোট করে, তবে সে সিদ্ধান্ত নিচুতলার নেতৃত্ব নেবে।

বিধানসভা নির্বাচনের পরই বাম ও কংগ্রেস সম্পর্কে ভাঙন
এবার বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস একসঙ্গে জোট করে লড়েছিল। আব্বাস সিদ্দিকির আইএসএফের সঙ্গে তারা সংযুক্ত মোর্চা তৈরি করে নির্বাচনে লড়ে। কিন্তু আশানুরূপ ফল হয়নি। তারপর উপনির্বাচন হয় বাংলায়। ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচনে শুধু শান্তিপুরে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। ফলে এখানে চতুর্মুখী লড়াই হয়। বাকি তিন কেন্দ্রে সিপিএম তথা বামেরা প্রার্থী দেয়। শান্তিপুর সিপিএমকে ছেড়ে দিতে বললেও প্রার্থী করে দেওয়ায় তারা পিছপা হননি।

ফরওয়ার্ড ব্লক শর্ত চাপিয়ে দেয় সিপিএমের উপর
এরপর পুরসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট করে লড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় বিমান বসু ও অধীর চৌধুরীর কথায়। কিন্তু বাম শরিকরা বেঁকে বসে কংগ্রেসের সঙ্গে লড়তে। বিশেষ করে ফরওয়ার্ড ব্লক শর্ত চাপিয়ে দেয় বড় শরিক সিপিএমের উপর। কংগ্রেসকে সঙ্গে নিলে তারা একলা চলো নীতি নিয়ে এগোতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি সিপিএম
সিপিএম তারপর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে ততটা আগ্রহ দেখায়নি। তাই এবার একলা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেস ঘোষণা করে দেয়, খারাপ সময়েও যাঁরা কংগ্রেস ছাড়েননি, এমন কংগ্রেস কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়া হবে। প্রকাশ উপাধ্যায় ও সন্তোষ পাঠকের মতো নেতাদের প্রার্থী করার ঘোষণা এখন থেকেই করে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।












Click it and Unblock the Notifications