মহারাষ্ট্রের মতো জোট কি সম্ভব বাংলায়! বিজেপির দাবি উড়িয়ে দিলেন অধীর-সেলিম
বাংলাতেও কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএম তথা বামফ্র্ন্টের মধ্যে আদর্শগত কোনো মিল নেই। তাহলে কি তারা পারবে মহারাষ্ট্রের মতো জোট বাঁধতে?
বঙ্গ বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা সরাসরি বাংলায় তৃণমূল-বিরোধী মহাজোটের ডাক দিয়েছেন। আবার একথাও বলেছেন, বাংলার বিরোধী দলগুলি তেল-জলের মতো না মিললেও জোটের দরকার। এই দাবির পরই প্রশ্ন উঠেছে মহারাষ্ট্রের মতো জোট কি হবে বাংলায়? বিজেপির দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম।

মানুষ ঠিক করে দেবে ভবিষ্যৎ
দিলীপ ঘোষের মহাজোটের দাবিকে সমর্থন করে, শুভেন্দু বলেন, এ রাজ্যে বিরোধী দলগুলি কখনই মিলবে না। যেমন তেলে-জলে মেলে না, তেমনই আদর্শগতভাবে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমের মিল হতে পারে না। ফলে একসঙ্গে পতাকা বাঁধা সম্ভব নয়। আন্দোলনটাও সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের উচিত সকলে 'নো ভোট টু মমতা' বলা। তারপর মানুষ ঠিক করে দেবে বিজেপি কে আনবে নাকি অন্য কাউকে।

ঠিক যে আঙ্গিকেই মহারাষ্ট্রে জোট
ঠিক এই আঙ্গিকেই মহারাষ্ট্রে জোট হয়েছিল। কংগ্রেস, এনসিপির মধ্যে জোট হলেও শিবসেনার সঙ্গে তাদের আদর্শগত জোট হতে পারে না। কিন্তু জোট হয়েছে, তারা মিলিজুলি সরকারও চালিয়েছে। এখনও সেই জোট অটুট রয়েছে মহারাষ্ট্রে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মহারাষ্ট্রে যা সম্ভব হয়েছে, তা কি বাংলায় সম্ভব?

সিপিএম-কংগ্রেসের ইতিবাচক সাড়া নেই
বাংলাতেও কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএম তথা বামফ্র্ন্টের মধ্যে আদর্শগত কোনো মিল নেই। তাহলে কি তারা পারবে জোট বাঁধতে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বিজেপির পক্ষ থকে বারবার মহোজাটের দাবি করা হলেও অন্য দুই প্রধান বিরোধী দল সিপিএম ও কংগ্রেসের থেকে ইতিবাচক সাড়া কিন্তু মিলছে না।

মহাজোট প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিমের মত
দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীদের দাবি উড়িয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বিজেপি বাঁচবে না। তাই বিজেপি বাঁচার জন্য অক্সিজেন চাইছে বিরোধীদের কাছ থেকে। অর্থাৎ বিজেপি নিজে বিরোধী নয়। তাই বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের কাছে তারা বাঁচার জন্য অক্সিজেন চাইছে।

মহাজোট প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর মত
মহম্মদ সেলিমের কথার সমর্থনেই প্রদেশ কংগ্রসে সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অস্তিত্ব শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই এসব কথা বলছে। তারা বাম-কংগ্রেসকে আশ্রয় করে টিকে থাকতে চাইছে। দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দুদের মন্তব্যকে এভাবেই হাতিয়ার করছে বাম ও কংগ্রেস শিবির।

মহাজোট নিয়ে প্রতিক্রিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী মহাজোটের ডাক দেওয়ার পরই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সাগরদিঘি নির্বাচনে সব মুখোশ খুলে গিয়েছে। বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সব এক হয়ে গিয়েছে। এই অনৈতিক জোটের বিরুদ্ধে লড়ে যাবে একটাই দল, তার নাম তৃণমূল কংগ্রেস।

দিলীপের জোট-বার্তা সমর্থন করেন শুভেন্দু
সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ বলেন, সরকার বিরোধীদের সঙ্গে যে রকম ব্যবহার করছে তার বিরুদ্ধে লড়তে গেলে এক হওয়ার দরকার। মহাজোট গড়ে তুলতে হবে। সাগরদিঘিতে তা অনেকটাই হয়েছে। এবার সার্বিকভাবে জোট গড়ে তুলতে হবে। দিলীপ ঘোষের এই কথার সমর্থন করেন শুভেন্দু অধিকারীও।

সাগরদিঘির সাফল্যকে মাথায় রেখেই জোট-বার্তা
এতদিন তৃণমূলকে হারাতে নন্দকুমার মডেল প্রয়োগের কথা অনেকদিন ধরেই চলছিল। এখন আবার সাগরদিঘি মডেল বাজারে হিট। তবে কোনো মডেলের তোয়াক্কা না করে এখন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ সরাসরি বিরোধী মহাজোটের দাবি তুলেছেন। তা অবশ্য সাগরদিঘির সাফল্যকে মাথায় রেখেই। সাগরদিঘিতে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হারিয়ে দেন তৃণমূলকে।












Click it and Unblock the Notifications