জোটে নেই, কিন্তু ভোটে আছে বাম! তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতেই প্রস্তাব কংগ্রেসের
জোটে নেই, কিন্তু ভোটে আছে বাম-কংগ্রেস। সিপিএমের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ভোট শেষ, জোটও শেষ। কিন্তু সিপিএমের এই অবস্থানের সঙ্গে সহমত নয় কংগ্রেস। কংগ্রেস চাইছে ভোট সেষেও জোট থাকুক।
জোটে নেই, কিন্তু ভোটে আছে বাম-কংগ্রেস। সিপিএমের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ভোট শেষ, জোটও শেষ। কিন্তু সিপিএমের এই অবস্থানের সঙ্গে সহমত নয় কংগ্রেস। কংগ্রেস চাইছে ভোট সেষেও জোট থাকুক। তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যতায় ধাক্কা খেয়ে কংগ্রেস আবার সিপিএমকে জোট প্রস্তাব দিতে চাইছে। তার আগে শুধু শান্তিপুরে প্রার্থী ঘোষণা করে সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে বার্তা দিয়ে রাখলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব, বিরোধিতা শুরু কংগ্রেসের
সম্প্রতি ২০২১-এর বাকি থাকা দুটি কেন্দ্রে এবং ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হল। এই তিন কেন্দ্রে ভোট থেকে শিক্ষা নিয়ে কংগ্রেস আবার সিপিএমের কাছাকাছি আসতে চাইছে। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য প্রার্থী দেয়নি। তা কংগ্রেসের দূর্বলতা মনে করেছে তৃণমূল। তাই প্রতিনিয়ত কংগ্রেসকে হেয় প্রতিপন্ন করে বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূল অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করে আসছে। এমনকী রাহুল গান্ধীর নাম করে আক্রমণ করতেও ছাড়েনি তৃণমূল।

বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে উদ্যোগী কংগ্রেস
তারপরই চার কেন্দ্রে আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেস পাশে পেতে চাইল সিপিএমকে। তৃণমূল সম্পর্কে মত বদলেছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। তাই আর নরম নয়, এবার থেকে তৃণমূলের প্রতি কঠোকর মনোভাবই দেখাবে দল। দিল্লি থেকে এমনই বার্তা পৌছেছে বিধানভবনে। হাইকম্যান্ডের এই বার্তা আসতেই বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে উদ্যোগী হল কংগ্রেস।

কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেসের সখ্যতা উধাও, তাই...
আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যের চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এই উপনির্বাচনে বামেদের দিকে সহয়োগিতার হাত বাড়িয়ে দিল কংগ্রেস। শান্তিপুর কেন্দ্রে শুধু কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে। বাকি তিন কেন্রেকে বামেদের সহযোগিতারই বার্তা দিল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেসের সখ্যতা উধাও, আবারও বামেদের সঙ্গে জোটে ফিরতে আগ্রহী অধীর চৌধুরী।

আগেভাগে প্রার্থী, জোট সম্ভাবন্য নস্যাৎ করে দেয় বামেরা
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী চাইছেন, পুজো কাটলেই বামেদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। বর্তমানে সীতারাম ইয়েচুরির বক্তব্যের পর সিপিএম জোট নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। ইয়েচুরি বলেছিলেন ভোট শেষ জোট শেষ। তারপর ভবানীপুর আসনে প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএম। মুর্শিদাবাদের দুটি কেন্দ্রেও বাম-কংগ্রেস সমন্বয় দেখা যায়নি। আর আসন্ন চারটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে জোট সম্ভাবন্য নস্যাৎ করে দেয় বামেরা।

বাম প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস
কংগ্রেস তবু পিছু হটতে নারাজ। তারা জোটের শর্তমতো শুধু শান্তিপুর আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস জোট হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস এই আসনে প্রার্থী দিয়ে আসছে। বাকি তিন আসনে সিপিএম তথা বামফ্রন্টে বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস। কিন্তু বামেরা এরপরও নমনীয় হয়নি। ফলে শান্তিপুর আসনে চতুর্মুখী নির্বাচন হবে। বাকি চিন আসনে অর্থাৎ খড়দহ, দিনহাটা ও গোসাবা কেন্দ্রে ভোট হবে ত্রিমুখী। কংগ্রেস বাম প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এমনকী ডাক পেলে প্রচারে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছে।

তৃণমূলের ব্যবহারে ক্ষুণ্ণ কংগ্রেস হাইকম্যান্ড
ভবানীপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী না দেওয়া প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না। কারণ কংগ্রেস কখনও সৌজন্য দেখাতে কার্পণ্য করে না। আমরা প্রার্থী দিইনি কারণ মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বিপুল জন সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই জয়কে সম্মান দিতেই আমরা প্রার্থী দিইনি। তবে তারপর তৃণমূল যেভাবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে নিশানা করছে, তা যে শীর্ষনেতৃত্ব ভালোভাবে নেয়নি, তা এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

বিজেপির সুবিধায় কংগ্রেসের ক্ষতি করে চলেছে তৃণমূল
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে চলছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই তারা কংগ্রেসের ক্ষতি করে চলেছে। বিজেপি বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নাম করে কংগ্রেসকে ভেঙে চলেছে। কংগ্রেসের ক্ষতিসাধন করলেই একমাত্র বিজেপির ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত হবে। সেই কাজটাই অতি সন্তর্পণে করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার করছে তৃণমূল
বিজেপি চায় কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়তে। নিজেরা তা পারেনি। এখন তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টিকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই কারণেই কিছু কিছু রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের নামে কংগ্রেসকে ভাঙছে তৃণমূল। এর ফলে বিজেপিরই লাভ হবে। একইসঙ্গে বিরোধী ঐক্যও গড়ে উঠবে না। বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার হবে ২০২৪-এর নির্বাচন জয়ের জন্য।












Click it and Unblock the Notifications