বিভিন্ন কলেজে হামলা টিএমসিপি-র, বিজেপি ও মিডিয়াকে উল্টে দুষলেন পার্থ
কলকাতা, ২ জানুয়ারি: বাংলায় ফিকে হচ্ছে সবুজ! লাগছে গেরুয়ার ছোঁয়া। আর তাতে এতটাই বিব্রত শাসক দল যে, বিভিন্ন কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রই জমা দিতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। টিএমসিপি (তৃণমূল ছাত্র পরিষদ) বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার বিভিন্ন কলেজে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)-র ওপর হামলা শানিয়েছে। এর জেরে শুক্রবার দিনভর সরগরম রইল রাজ্য রাজনীতি।
নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা এখন উত্তুঙ্গ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান অনাস্থা। এর দু'য়ে ভর করে পশ্চিমবঙ্গে মাটি শক্ত করছে বিজেপি। এটা বুঝতে পেরে তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

জানুয়ারি মাসেই রাজ্যে ৪৭২টি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। সেই জন্য কিছু জায়গায় এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ। এ দিন বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূমের বিভিন্ন কলেজে টিএমসিপি মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয় এবিভিপি-কে। বর্ধমানে কালনা, বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি, ওন্দা, ইন্দাস ইত্যাদি কলেজে হাতাহাতি হয়। ওন্দা কলেজে পুলিশের সামনেই টিএমপিসি তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। বাঁকুড়ার সম্মিলনী কলেজে লাঠি নিয়ে এবিভিপি-র ওপর হামলা হয়।
Today ABVP faceing TMC'S TRICOLOUR VIOLENCE IN PASCHIM BANGA verious college campuses at BIRBHUM,BARDHAMAN,BANKURA districts.
— ABVP Paschimbanga (@abvpbanga) January 2, 2015 এ ছাড়াও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে বীরভূম জেলায়। খয়রাশোল, ইলামবাজারে কলেজের সংঘর্ষ নেমে আসে রাস্তায়। বোমা মারা হয় বলেও অভিযোগ। যদিও টিএমসিপি এই খবর অস্বীকার করেছে। মুর্শিদাবাদে কয়েকটি কলেজেও সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে এবিভিপি-র পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অচিন্ত্যকুমার বিশ্বাস বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এখন হাওয়া বদলেছে। সেটাই মানতে পারছে না শাসক দল। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।"
শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার বলেন, "ছাত্রদের মনে প্রেম জাগ্রত হোক। হিংসা কোমলমতি ছাত্রদের ক্ষতি করবে। শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্যের দায় শাসক দল এড়াতে পারে না।"
এদিকে, টিএমসিপি-র বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বেহালায় একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেন, "যারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনীতির লড়াইয়ে পেরে উঠছে না, তারা এ সব করছে। যারা পারছে না, তারা আক্রান্ত হওয়ার গল্প বানিয়ে মিডিয়ার কাছে যাচ্ছে, যাতে ছবি তোলা যায়।" অর্থাৎ নাম না করেই তিনি যাবতীয় দায় বিজেপি তথা এবিভিপি এবং সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications