১ কোটি রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি নিয়ে মিথ্যাচার ফাঁস! বিজেপিকে ক্ষমা চাইতে বললেন অভিষেক
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকার খসড়া পশ্চিমবঙ্গে 'এক কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি' থাকার বিষয়ে বিজেপির 'মিথ্যাচার' ফাঁস করে দিয়েছে। আজ এই দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, রাজ্যকে হেয় করার এই অপপ্রচারের জন্য বিজেপির এখন ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর পদ্ধতির পর কমিশন গতকালই রাজ্যের ভোটার তালিকার এই খসড়া প্রকাশ করে। মৃত্যু, স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে এই তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যারা বাংলায় এক কোটি অনুপ্রবেশকারীর কথা বলছিল, তাদের মিথ্যাচার আজ ফাঁস হয়ে গিয়েছে।" তিনি নির্বাচন কমিশনের তথ্য উল্লেখ করে জানান, 'ভুয়ো' বা 'ভূতুড়ে' ভোটারের সংখ্যা মাত্র ১.৮৩ লক্ষ, যা বিজেপির দাবির তুলনায় নগণ্য। তাঁর দাবি, "রাজ্যকে অনুপ্রবেশকারীদের আখড়া বলে দেশের সামনে হেয় করার জন্য তাদের এখন বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।"
বিজেপি যেভাবে সমস্ত বাঙালিকে 'বাংলাদেশি' বলে হেয় প্রতিপন্ন করছে, তাকে 'লজ্জাজনক' আখ্যা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, "এখন এটা বন্ধ করা উচিত, আর তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার প্রয়োজন নেই। দাবি ও আপত্তির জন্য এখনও প্রায় ৪৫ দিন সময় আছে।"
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন। তাঁর প্রশ্ন, "যদি সত্যিই বাংলায় অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে এর জবাব অমিত শাহকেই দিতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে।"
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক মাসব্যাপী গণনা, যাচাইকরণ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর এই খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। এতে মৃত্যু, স্থায়ী স্থানান্তর, দ্বৈত ভোটারের নাম এবং গণনা ফর্ম জমা না দেওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে নাম বাদ দেওয়ার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
এর আগে বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছিলেন, বাংলায় বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী রয়েছে, যা নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে এমন ভোটারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications