তৃণমূলের তালিকা থেকে বাদ শান্তনু-শুভাশিস! 'শর্ত' না মানায় সিবালের মতোই 'বাতিল' অভিষেক মনু সিংভির আবেদন
রাজ্য সরকার কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়েন হাইপ্রোফাইল অভিষেক মনু সিংভি। ভাল সম্পর্ক রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তৃণমূল সূত্রে খবর, সেই সিংভিও চেষ্টা করেছিলেন ফের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মনোনয়ন পেতে। কিন্তু বাংলার শাসকদলের শর্ত মানতে অস্বীকার করায় রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেলেন না তিনি। সেই সঙ্গে এবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন শান্তনু সেন এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর মতো নেতারা।
তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেন। যে কোনও কিছুতে দলকে রক্ষা করতে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে দেখা যায় তাঁকে। এহেন নেতা তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।

আগামী ২ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাংসদ হিসেবে অভিষেক মনু সিংভির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, নির্দল প্রার্থী হিসেবে বাংলা থেকে আবার রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার চেষ্টা তিনি করেছিলেন। এব্যাপারে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছিল। সেখানেই শর্ত দেওয়া হয়েছিল অভিষেক মনু সিংভিকে। যা মানতে তিনি অস্বীকার করেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের তরফে তাঁকে বলা হয়েছিল, রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেতে গেলে তাঁকে তৃণমূলে যোগদান করতে হবে। নির্দল প্রার্থী হিসেবে তাঁকে তৃণমূল সমর্থন করবে না। সেই শর্তে রাজি হননি অভিষেক মনু সিংভি।
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে কংগ্রেস নেতা তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যখন এই রাজ্য় থেকে রাজ্যসভার ভোটে প্রার্থী হন, সেই সময় কংগ্রেস ছিল প্রধান বিরোধী দল। তৎকালীন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী এবং বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান আপত্তি করলেও এআইসিসি তাঁকে মনোনয়ন দেয় এবং তিনি কংগ্রেসের ৩৪, বিদ্রোহী নয় এবং কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের ভোটে রাজ্যসভায় যান।
পরবর্তী সময়ে তৎকালীন কংগ্রেসে থাকা অপর সুপ্রিম কোর্টের হাইপ্রোফাইল আইনজীবী কপিল সিবাল রাজ্যসভা ভোটের মনোনয়ন পেতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে দরবার করেছিলেন। সময়টা ছিল দীনেশ ত্রিবেদী ও মানস ভুঁইয়ার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময়। সেই সময় সিবালকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মনোনয়ন পেতে গেলে তাঁকে তৃণমূলে যোগ দিতে হবে। কিন্তু সিবাল তৃণমূলে যোগ দিতে রাজি ছিলেন না।
কপিল সিবাল সেই সময় অখিলেশ যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের শর্তে নির্দল হিসেবেই রাজ্যসভায় যান। কিন্তু অভিষেক মনু সিংভি এবার রাজ্যসভায় যেতে নিজের জন্মভূমি রাজস্থানকে ব্যবহার করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এব্যাপারে রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গেও নাকি আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।












Click it and Unblock the Notifications