যোগ্য ভোটার বাদ গেলেই দিল্লিতে কমিশনের অফিসের বাইরে ১ লক্ষ লোকের ধরনা, হুঁশিয়ারি অভিষেকের

আজ থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। আর তা নিয়েই এদিন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের তুমুল সমালোচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে ২০২৬ সালে বাংলায় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এই এসআইআর হলো সাইলেন্ট ইনভিজিবল রিগিং বা চুপিচুপি ভোটে কারচুপি।

অভিষেক বলেন, একটা বিশাল কাজ নির্বাচন কমিশন দ্রুত শেষ করতে চাইছে। ২০০২ সালে এসআইআর সম্পূর্ণ হতে দু'বছর সময় লেগেছিল। এখন কোন জাদুকাঠি এসে গেল যে নির্বাচন কমিশন দুই মাসেই তা করে ফেলবে। এর মূল্য উদ্দেশ্য হলো রাজ্য প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা, যাতে নির্বাচিত সরকার সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে। এখন সাত মাস ধরে কমিশনের নিয়ন্ত্রণে সব থাকলে সরকার কাজ করবে কীভাবে?

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিজেপির সহযোগী সংস্থা নির্বাচন কমিশন গতকাল এসআইআর ঘোষণা করেছে। এই প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্তির জন্য নয়, বরং বাদ দেওয়ার জন্য। কেন্দ্রের শাসক দল "কে ভোট দেবে আর কে দেবে না" তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। আগে জল, রাস্তা, বাড়ি আটকানো হতো। এখন ভোটারদের ভোট দেওয়া থেকে আটকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "মাত্র দেড় বছর আগে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদি এখন ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি থাকে, তাহলে লোকসভা ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন করা উচিত।"

অভিষেকের কথায়, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বাংলায় কেন এসআইআর ঘোষণা করা হলো? অন্যান্য সীমান্ত রাজ্যগুলির নাম কেন নেই এসআইআরে? অসমের নাম কৌশল করে বাদ দেওয়া হলো! উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের নাম জুড়ে দিয়ে কী বোঝানোর চেষ্টা? মানুষ সব বোঝেন। যখন পাঁচটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে, তখন কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই এসআইআরের জন্য বেছে নেওয়া হলো?

পানিহাটিতে এক ব্যক্তি সুইসাইড নোটে এনআরসিকে দায়ী করে আত্মহত্যা করেছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, এই মৃত্যুর জবাব গণতান্ত্রিকভাবেই মানুষ দেবেন। এই ঘটনায় অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমারের নামে এফআইআর হওয়া উচিত। অমিত শাহ এনআরসি করতে চেয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমার এসআইআরের মাধ্যমে এনআরসিই ঘুরিয়ে করতে চাইছেন। অভিষেক তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি একজনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে বাংলার এক লক্ষ মানুষ দিল্লির নির্বাচন কমিশন অফিসের বাইরে ধরনা দেবেন।" অভিষেক আরও বলেন, এসআইআর সত্ত্বেও আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন বাড়বে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+