সংবিধান সংশোধনী বিলকে সমর্থন করবে তৃণমূল, তবে...! অমিত শাহকে বড় চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
SIR করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে, মুখ থুবড়ে পড়েছে। তা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল এনেছে কেন্দ্র। তবে সংসদের দুই কক্ষে বিল পাস করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। ফলে ওরা এই বিল কোনওদিন পাস করাতে পারবে না। মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

অভিষেক বলেন, ২৫-২৬ জন সাংসদ আজ সংসদে ছিলেন আমাদের। তাঁদের জন্যই আজ চারদিকে মার্শাল নিয়ে চতুর্থ সারিতে বসে বিল পেশ করতে হয়েছে ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতি, বিশ্বগুরুর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। আমাদের এখন ২৮ জন সাংসদ লোকসভায়, ২৯টিতে আমরা জিতেছিলাম। বসিরহাটের সাংসদ প্রয়াত হয়েছেন, গোহারা হারবে বলে সেখানে ভোট করাচ্ছে না। বাংলার মানুষ যদি আমাদের ৪০টি আসনে জেতাতেন লোকসভা নির্বাচনে, তাহলে অমিত শাহ-সহ বিজেপির তাবড় নেতাদের সংসদের শেষ সারিতে গিয়ে বসতে হতো। অমিত শাহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য, ব্যর্থ। তাঁকে স্বরাষ্ট্র, সমবায় মন্ত্রক থেকে সরিয়ে নতুন সরকার ফেলার মন্ত্রক খুলে তাঁর মন্ত্রী করুন প্রধানমন্ত্রী।
অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য হাতিয়ার করে বলেন, বিগত ১০ বছরে ইডি ৫৮৯২টি মামলার তদন্ত করেছে, কনভিকশন হয়েছে ৮টিতে, অর্থাৎ তদন্তে সাফল্যের হার ০.১৩ শতাংশ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে সবগুলি মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৯৯.৯ শতাংশ মামলার ক্ষেত্রেই তো ব্যর্থ ইডি। তাহলে ইডি তুলে দেওয়া হোক। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, সুপ্রিম কোর্টও তো বলেছে ইডি সংবিধান-সহ যাবতীয় বিষয়কে লঙ্ঘন করছে।
অভিষেক বলেন, বিলে বলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী যদি ৩০ দিন ধরে গ্রেফতার থাকেন, তাহলে ৩১ দিনের মাথায় তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেওয়া হবে না! দেশে আইন, আদালত আছে তো। আমি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, ৩০ দিন কমিয়ে ১৫ দিন করা হোক। তবে বিলে এ কথা উল্লেখ থাক, যদি গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ১৫ দিনের মাথায় প্রমাণ করা না যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসার থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থার জয়েন্ট ডিরেক্টর-সহ পদাধিকারীদের তার দ্বিগুণ সংখ্যক দিন জেলে থাকতে হবে। আসলে এই বিল গিমিক ছাড়়া কিছু নয়।
অভিষেক বলেন, বিরোধীদের চাপে রেখে ভয় দেখাতেই এই বিল। বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে সরকার ফেলতে নানা কৌশল নিয়েছে। সঠিকভাবে নির্বাচন হলে এবারও লোকসভা ভোটে বিজেপি ১০০-র বেশি আসন পেত না। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সত্যেন্দ্র জৈন, মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় রাউত থেকে শুরু করে হেমন্ত সোরেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের ইডি, সিবিআই লাগিয়ে জেলে পাঠিয়েছিলেন। অভিযোগ প্রমাণ করুন। যাঁদের দু-তিন বছর ধরে জেলে রেখেছেন, কে ফেরাবে তাঁদের এই সময়। তদন্তের নামে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে কাউকে জেলে রাখা যায় না। আমিও তো লড়ছি ইডি-সিবিআইয়ের বিভিন্ন মামলায়। কোর্ট কেস ডায়েরি চাইলেও তা জমা দিতে পারছে না। কেন্দ্র চাইছে বিরোধীদের ইডি, সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে দলবদল করতে, সরকার দখল করতে। ২৪০ আসন নিয়েই সংবিধানে এমন বদল আনতে চাইছে। যদি ৪০০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতো তাহলে কী হতো! গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল রাখাই ওদের একমাত্র লক্ষ্য।
অভিষেকের কথায়, বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। এরা আবার স্বচ্ছতার কথা বলে। নোটবন্দি করে একশো চল্লিশ কোটি মানুষের চোখের জল ফেলিয়েছিল। আমরাও চেয়েছিলাম কালো টাকা ধ্বংস হোক। কিন্তু বিজেপির বন্ধুদের কালো টাকা সাদা হয়েছে। কৃষি বিল এনেছিল কৃষকদের ভালোর জন্য নয়, ওদের ঘনিষ্ঠ সংস্থার স্বার্থে। জিএসটিতে দেশের উন্নতির কথা বলা হয়েছিল। দেশ রসাতলে, একাংশ ধনী থেকে আরও ধনী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা যাঁদের নামে নানা অভিযোগ করেছিলেন, কয়েক দিন পর তাঁদেরই দলে নিয়ে সরকার গড়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপিই তুলেছিল, কিন্তু হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অজিত পওয়ার, শুভেন্দু অধিকারীরা বিজেপিতে যাওয়ার পরই তাঁদের সমন পর্যন্ত পাঠানো হয়নি। আমাদের তৃণমূলের কয়েকজনকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। যাঁরা মেরুদণ্ডহীন তাঁরা গিয়েছেন। তাতে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইডি, সিবিআইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হলেও আমরা বশ্যতা স্বীকার করব না। আমরা ভয় পাই না। সংসদে আজও আমাদের সাংসদরা সামনে থেকে যেভাবে লড়াই করেছেন তা সংসদে এবং বাইরে আগামী দিনেও চলবে।
এদিন সংসদের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর সময় তৃণমূলের মহিলা সাংসদদের উপর যেভাবে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আক্রমণ চালিয়ে হেনস্থা করেছেন, তার নিন্দা করেন অভিষেক। বিষয়টিতে যাতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ হয় তা নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও জানান অভিষেক। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে ইডি তলবও যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা বুঝিয়ে দেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications