বিজেপিকে ৫০ আসন পাওয়ার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, আরজি কর প্রসঙ্গে সিপিআইএমকেও জোরদার নিশানা
সামনের বছর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতা থাকলে ৫০টা আসন পেয়ে দেখাক। লড়াই বুঝে নেব। চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর সামনের ২৮ অগাস্ট আমরা জয়ধ্বনি দেব। মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে এই বার্তা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বলেন, ২০১১ সালে ১৮৪টি আসন পেয়েছিলাম আমরা। এর পরের পাঁচ বছর কুৎসা চলেছে, ২০১৬ সালে আসন বেড়ে হয় ২১১। ২০১৬ থেকে ২০২১ কুৎসা যত বেড়েছে, জনসমর্থন বেড়েছে, আসন সংখ্যা হয়েছে ২১৫। তোমরা বলো ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, আমরা বলি সাজিয়ে দাও, গুছিয়ে দাও। যারা ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে ছোট করেছে, বাংলাদেশি বলেছে, বাংলা বলে ভাষা নেই, বাঙালি বলে জাতি নেই বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার ১০ কোটি বঙ্গবাসীর লড়াই। বিজেপি, ইডি, সিবিআই, সংবাদমাধ্যম তৃণমূলের বিরুদ্ধে, ১০ কোটি বঙ্গবাসী তৃণমূলের পক্ষে।
অভিষেক আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা থেকে সরানোর কথা যারা বলে তাদের বলি, নেত্রীর সঙ্গে তো পরে, আগে তৃণমূলের ছাত্র, যুবদের মোকাবিলা করো। তারা ১০-০ গোলে বিজেপি, সিপিআইএম, সংবাদমাধ্যমের কুৎসাকে হারাবে।
অভিষেকের ভাষণের শুরুতেই উঠে আসে আরজি কর আন্দোলনের কথা। অভিষেকের কথায়, আরজি করের ঘটনাকে নিয়ে সারা রাজ্যে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল। একই সময়, একই দিন, এক বছর আগে বলেছিলাম যাঁরা দোষীর শাস্তির দাবিতে রাত দখলের ডাক দিচ্ছেন, সেই নারীদের লড়াইকে সম্মান জানাই। ১ বছরের বেশি অতিক্রান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যা করেছে, সিবিআই ১ বছর পার হলেও কিছু করতে পারেনি তা প্রমাণিত। দোষীর দৃষ্টান্তমূলর শাস্তি হোক এটা চেয়ে রাজ্য সরকার বিধানসভায় অপরাজিতা বিল পাস করিয়ে গত সেপ্টেম্বরের প্রথমে রাজ্যপালেন কাছে পাঠায়। সেই বিল অনেক পরে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালেও অনুমোদন মেলেনি। যাঁরা সেই সময় আন্দোলন করেছিলেন তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল দোষী শাস্তি পাক তা নয়। গরিব মানুষের স্বার্থে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ভেঙে ফেলা ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের কাছে সেই বিল পাস করানোর দাবি কেন জানাচ্ছে না সিপিআইএম, বিজেপি?
এসআইআর ইস্যুতে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ানোর কথা বলে অভিষেক বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বাংলা যোগ্য জবাব দেবে। আগে ভোটাররা নিজের পছন্দের দল বাছতেন। এখন সরকার নিজেদের স্থায়িত্ব আর স্বার্থরক্ষায় ভোটার বেছে নিচ্ছে। ৬৯ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডারদের বকেয়া আটকে রেখেছিল কেন্দ্র। আমরা সেই টাকা আনতে না পারলেও সকলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের প্রাপ্য অর্থ রাজ্য সরকারের ফান্ড থেকে দিয়েছেন। ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে যারা বাংলাদেশি বলে ছোট করেছে তাদের যোগ্য জবাব দিতে, প্রতিশোধের রাজনীতি তুলতে গণতান্ত্রিক ও সমষ্টিগতভাবে পথে লড়াইয়ের আন্দোলনের রাস্তা বেছে নেব। বিজেপির বন্ধুদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখছি। মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নিতে গেলে ১০ লক্ষ লোক নিয়ে দিল্লির রাজপথ তৃণমূল ঘেরাও করে বুঝিয়ে দেবে কত ধানে কত চাল।
বিচারব্যবস্থার একাংশকেও এদিন নিশানা করে অভিষেক বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় কালবিলম্বে অনেকে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে, শিক্ষা দিতে গিয়ে হাইকোর্টের বিচারব্যবস্থার একাংশ ছাত্র-যুবদের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে এনেছিল। আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ পাই। তার ১ ঘণ্টার মধ্যে সরকার প্রক্রিয়া চালু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications