বেলডাঙার ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি আর নতুন গদ্দার! বহরমপুরে বড় দাবি অভিষেকের, 'নির্যাতন কমিশন'কেও কটাক্ষ
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন কবীর এর নেপথ্যে আছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই সঙ্গে এদিন নির্বাচন কমিশনকে নির্যাতন কমিশন বলেও কটাক্ষ করেন অভিষেক।

বহরমপুরে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, আমি বেলডাঙ্গায় অশান্তির খবর পেয়েছি। গতকালও সেখানে অশান্তি হয়েছে। দলের অনেকেই আমাকে আজকের কর্মসূচি দু-একদিন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ অনেক মানুষ হয়তো আসতে পারবেন না। আমি প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমের পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, বিজেপির বাবুরা আর এই মাটির এক 'নতুন গদ্দার' মিলে এই অশান্তি পাকাচ্ছে। আমি যদি আজকের ইভেন্ট বাতিল করতাম, তবে এই গদ্দাররা অক্সিজেন পেতো।
অভিষেক আরও বলেন, আপনারা বিজেপির এক ডামি প্রার্থী তথা গদ্দারকে (পড়ুন অধীর রঞ্জন চৌধুরী) আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এখন এই নতুন গদ্দারকেও গণতান্ত্রিকভাবে দেখে নিতে হবে। যারা মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন আর উত্তেজনা তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদকে এক হতে হবে। মুর্শিদাবাদের একটা বুথেও যদি বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বীজ বোনা হয়, তবে তা মুর্শিদাবাদকে দুর্বল করবে আর বিজেপিকে শক্তিশালী করবে। ২০২১ সাল থেকে আপনারা যেভাবে এক হয়ে আছেন, সেভাবেই এক থাকুন। বিজেপি সব জায়গায় জিতেছে, কিন্তু বাংলায় তারা তৃণমূলের কাছে ধারাবাহিকভাবে হারছে। এই ধারা যেন না বদলায়।
অভিষেকের কথায়, গতকাল বেলডাঙায় যা ঘটেছে, সেই প্রেক্ষিতে আমি সকলকে অনুরোধ করছি, কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। গতকাল একজন সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছেন। আজও একই ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমি প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তৃণমূল এসব সমর্থন করে না। আমাদের সংযত থাকতে হবে। আমরা যদি প্ররোচনায় পা দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিই, তবে তাতে বিজেপিরই লাভ হবে। যিনি বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়ে এখন রাজনীতি করছেন, তিনি নিজেই ২০১৯ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। তাহলে বিজেপির সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগটা কার? খুব শিগগিরই জনগণের সামনে তাঁর আসল মুখ বেরিয়ে আসবে। মুর্শিদাবাদের সব ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ, শান্তি বজায় রাখুন। বিজেপিকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক অক্সিজেন দেওয়া যাবে না।
অভিষেক বলেন, বিজেপি ১০০ দিনের কাজ, আবাসন যোজনা, গ্রামীণ সড়ক যোজনা এবং জল জীবন মিশনের টাকা আটকে দিয়েছে। বাংলাকে আর্থিকভাবে ভাতে মারার চেষ্টা করেও তারা থামেনি। এখন তারা SIR-এর নামে বাংলার মানুষকে ক্রমাগত হেনস্থা করছে। নির্বাচন কমিশন আজ 'নির্যাতন কমিশন'-এ পরিণত হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, তাঁদের জন্য জেলা শাসক দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন। কোনও পরিযায়ী শ্রমিক যদি বিপদে পড়েন, তবে এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করবেন। আমাদের প্রশাসন সব ধরনের আইনি সহায়তা দিয়ে আপনাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনবে। হেল্পলাইন নম্বর দুটি হল-৭৪৩০০০০০৩০ এবং ৯১৪৭৮৮৮৩৮৮। আলাউদ্দিন শেখের সঙ্গে যা হয়েছে তা শোনার পর আমি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, এই ঘটনার পেছনে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না; এতে বিজেপি আর গদ্দারদেরই সুবিধা হবে। প্ররোচনায় পা দেবেন না।
অভিষেক আরও বলেন, সাংসদ ইউসুফ পাঠান গতকাল আমাকে ফোন করে বেলডাঙায় যেতে চেয়েছিলেন। আমি তাঁকে ১-২ দিন অপেক্ষা করতে বলেছি। আজকের সভার পর আমাদের বিধায়ক ও সাংসদ আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসন ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়েছে। তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিষেক মুর্শিদাবাদের সব আসনে তৃণমূলকে জেতানোর ডাক দিয়ে বলেন, আগামী দিনে আমি মুর্শিদাবাদে আসব আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে এবং আপনারা যেখানে চাইবেন সেখানে যাব। কিন্তু এই জেলায় আমরা যেন ২২-০ ব্যবধানে জিততে পারি সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সময় গদ্দারদের মুখোশ খুলে দেবে।












Click it and Unblock the Notifications