করোনার বাড়বাড়ন্তেও অভিষেকের উপস্থিতিতে জনসমাবেশ, বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের
করোনার বাড়বাড়ন্তেও অভিষেকের উপস্থিতিতে জনসমাবেশ, বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের
ওমিক্রনের চোখ রাঙানিতে রাজ্যে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কর্মসূচি কাটছাঁট করে দিয়েছেন। স্থগিত করেছেন নেতাজি ইন্ডোরে ছাত্রদের নিয়ে সমাবেশ, স্থগিত হয়েছে দুয়ারের সরকারের ক্যাম্প। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে হল জন সমাবেশ। তা নিয়েই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

রাজ্যে করোনার বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে, এই অবস্থায় রাজ্যের শাসক দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আর দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেছিল বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশর। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এমপি কাপের ফাইনালে অভিষেকের উপস্থিতিতে একেবারে বিপরীত চিত্র দেখল রাজ্যবাসী।
শুধু এমপি কাপের পাইনাল খেলাই নয়, এই খেলার পরবর্তী সময়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যে মানুষের মহাসমাবেশ হয়েছে তা এই সময়ে কাম্য নয় একেবারেই। এটা ঠিক যে রাজ্যে এখনও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। তাছাড়া যখন এই এমপি কাপ শুরু হয়েছিল বা খেলা চলাকালীন এতদিন করোনার বাড়বাড়বন্ত ছিল না। তা শুরু হয়েছে মাত্র চার-পাঁচদিন। তার মধ্যেই পড়ে গিয়েছে এমপি কাপের ফাইনাল। প্রতিযোগিতার শেষপর্বের অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল নেমেছিল রবিবার। সেখানে শান, আকৃতি কক্কর, বাবুল সুপ্রিয়দের সঙ্গীতানুষ্ঠানেও রাশ টানা উচিত ছিল বলে মনে করছে সচেতন রাজ্যবাসী। উল্লেখ্য, এদিন ফুটবল পায়ে মাঠে নামেন বাইচুং-আলভিটোরাও।
রাজ্যের সচেতন মানুষ আশা করেছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তেমন কিছু করবেন, যেটা করে দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পও স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, ছাত্রদের নিয়ে সমাবেশও স্থগিত রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে অভিষেক কেন পারলেন না এমপি কাপের ফাইনালের অনুষ্ঠান স্থগিত রাখতে, কেন তিনি আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে পারলেন না, তা জিজ্ঞাসা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সেইসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের জিজ্ঞাস্য, কেন অভিষেক করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আগেই বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিলেন। যা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে ঢাল করতে পারে বিরোধী বিজেপি, সিপিএম, এমনকী কংগ্রেসও। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে অভিষেককে দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখেছে রাজ্যবাসী। তিনি রান্না করা খাবার তুলে দিয়েছেন মানুষকে। চিকিৎসকদের নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছেন। তাহলে কেন এবার শুরুতেই একটা কাঁচা কাজ করে ফেললেন, যা নিয়েও সমালোচনায় মুখর হতে পারে বিরোধীরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্ব করোনা পরিস্থিতিতে যে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে তৃণমূলের অভিষেক-ফিরহাদরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সচেতন করেছেন রাজ্যবাসীকে। শুধু এক্ষেত্রে একটা জমায়েতের কারণেই অভিষেক সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন বিরোধীদের।
ইতিমধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে করোনা বাড়ার জন্য নবান্নকে দায়ী করেছেন। তিনি টুইট করে লেখেন, করোনার বাড়তে শুরু করা সত্ত্বেও রাজ্যে ক্রিসমাস ডে, বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয়েছে। আবার তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসও পালন হয়েছে ধুমধাম করে। এ ব্যাপারে আগে থেকে সচেতন হলে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি এই জায়গায় যেত না।












Click it and Unblock the Notifications