মুকুলের মুখে আদালতের তালা লাগালেন অভিষেক, ১৪ ডিসেম্বর হাজিরার নির্দেশ
হুঁশিয়ারি দিয়েই রেখেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে মুকুল রায়-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরই করলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
বিশ্ববাংলা বিতর্কে এবার মুকুল রায়কে কড়া ট্যাকল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২১ নভেম্বর আলিপুর কোর্টে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মুকুল রায়কে এই মামলার চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এই আইনি চিঠিতে পরিষ্কার করে উল্লেখ করা হয়েছে কী কী কারণে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে- সেই বিষয়গুলি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ করা ল'ফার্ম 'অ্যাকুইল ল'-এর আইনজীবী সঞ্জয় বসু-র সই করা এই চিঠি-তে মুকুল রায়কে জানানো হয়েছে যে তিনি ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে বিশ্ববাংলা এবং জাগো বাংলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। এমনকী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রকার যোগ নেই এমনকোনও সংস্থার সঙ্গেও তাঁর নাম জোড়া যাবে না বলে মুকুল রায়কে সতর্ক করা হয়েছে।
১৪ ডিসেম্বর আলিপুর আদালতে মুকুল রায়কেও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। হাজিরা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী।

১০ নভেম্বর কলকাতার রানি রাসমণি রোডে বিজেপি-র জনসভায় মুকুল রায় রাজ্য সরকারের 'বিশ্ববাংলা' ব্র্যান্ড এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র 'জাগোবাংলা'-র মালিকানা নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, 'বিশ্ববাংলা' রাজ্য সরকারের ব্র্যান্ড হলেও আসলে এর মালিকানা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। এমনকী, 'জাগোবাংলা'-র মালিকানাও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা সংস্থার হাতে বলেও জনসভায় অভিযোগ করেছিলেন মুকুল রায়। সেদিনের সভায় মুকুল রায় তাঁর বক্তব্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন সেই বক্তব্যের অংশবিশেষও এই আইনি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

'বিশ্ববাংলা' বিতর্কে মুকুল রায় অবশ্য নিজের তোলা অভিযোগের পক্ষেই জোর সওয়াল করে চলেছেন। বরং তিনি হুমকি দিয়েছেন যে এবার দু'নম্বর ফাইল-কে সকলের সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত সরকারের আসল চেহারাটাকে তুলে ধরবেন।
'বিশ্ববাংলা' নিয়ে মুকুল রায়ের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব অত্রি ভট্টাচার্য রাজ্যের পক্ষে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি মুকুলের অভিযোগকে শুধু ভুল বলেই প্রতিক্রিয়া দেননি, সেইসঙ্গে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন। এমনকী, এর একদিন পরে ফের ক্ষুদ্র শিল্পের সচিব রাজীব সিনহাকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। সেখানেও মুকুল রায়-এর দাবিকে উড়িয়ে দেন তাঁরা। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্ক প্রসূত এই বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ডের রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেছিলেন। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববাংলার লোগো রাজ্য সরকারকে নিঃস্বার্থভাবে দান করায় অভিষেক তাঁর রেজিস্ট্রেশনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু, বিশ্ববাংলা বিতর্ক এতেও থামেনি। অভিষেকের করা মানহানির মামলা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যে যোগ করল তাতে কোনও সন্দেহ নেই।












Click it and Unblock the Notifications