দল থেকে সরকার, তৃণমূল ও বিজেপির তফাত কোথায়, ব্যাখ্যা করলেন অভিষেক
দল থেকে সরকার, তৃণমূল ও বিজেপির তফাত কোথায়, ব্যাখ্যা করলেন অভিষেক
দিন যত ভোটের দিকে এগোচ্ছে, তৃণমূল (trinamool congress) ও বিজেপির (bjp) মধ্যে বাকযুদ্ধও জোরদার হচ্ছে। সাধারণ মানুষও চেষ্টা করছেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে পার্থক্য করতে। ডায়মন্ডহারবারের জনসভায় দলের কর্মী ও সমর্থকদের কাছে দুই দল ও সরকারের মধ্যে পার্থক্যের দাবি করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (abhishek banerjee)।

কেন্দ্র সাসপেন্ড করেছে সাংসদ তহবিল, রাজ্য বিধায়ক তহবিলে তা করেনি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রের তরফে প্রত্যের সাংসদকে ৫ কোটি টাকা করে প্রতিবছরে দেওয়া হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে আপাতত সাংসদ তহবিল সাসপেন্ড রাখা হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়ন বাধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকার বিধায়ক তহবিল বন্ধ করেনি। বিধায়ক তহবিলে টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, দরকারে সাংসদদের মাইনে বন্ধ করে দিন। কিন্তু উন্নয়নের জন্য সাংসদ তহবিলের টাকা দিতেই হবে। এর জন্য যদি দরকার পরে তাহলে আন্দোলন দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাজপেয়ীর বিজেপি আর বর্তমান বিজেপি আলাদা
তৃণমূল থেকে প্রভাবশালী নেতারা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। যা নিয়ে তৃণমূল আক্রমণ শানাচ্ছে। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বিজেপি নেতারা বলছেন, ১৯৯৮ সালে বিজেপির সমর্থনে লোকসভা এবং পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় লড়াই করেছিলেন। গুজরাত দাঙ্গার সময়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে সরকারের সমর্থনে ছিলেন। যা নিয়ে জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেই সময় ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর বিজেপি। যা বর্তমান বিজেপির থেকে আলাদা।

তেরঙ্গা নিয়ে এসেছিলেন মমতা
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতানেত্রীর বিশ্বাসঘাতক বলে বর্ণনা করছে ঘাসফুল শিবির। পাল্টা বিজেপির তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এরই জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলের তরফে একবার বলা হয়েছিলেম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দল তৈরি করেছিলেন। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে তেরঙ্গা ঝান্ডাটাই নিয়ে এসেছিলেন। পরে সাধারণ মানুষ তাঁকে অনুসরণ করেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলবদলকারী বলা যায় না।

তফাত মেরুদণ্ডে
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর তফাত করেছেন। তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করে বলেছেন, তাঁর সঙ্গে তফাত মেরুদণ্ডে। শুভেন্দু অধিকারীকে মেরুদণ্ডহীন, পাল্টিবাজি নেতা বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নারদার ভয়েই শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর পিছনে যতই সিবিআই, ইডি, আয়কর লাগানো হোক, কেউ কিছুই করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন অভিষেক।

নাড্ডার কনভয়ে হামলায় হয়, তাঁদের কনভয়ে হয় না
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের সভা থেকে ১০ ডিসেম্বর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাকে পূর্ব পরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তিনি নাড্ডার কনভয়ে মিনিবাস এবং দেড়শো মোটরবাইক থাকার অভিযোগ করে বলেন, তিনি কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে তো এসব থাকে না। দলের কর্মী সমর্থকদের কাছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাতে ইভিএমকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।












Click it and Unblock the Notifications