তৃণমূলে ‘গৃহযুদ্ধ’ বাইশে! ‘অভিমানী’ অভিষেকের অবস্থানে লুকিয়ে রয়েছে অশনি-সংকেত
তৃণমূলে ‘গৃহযুদ্ধ’ বাইশে! ‘অভিমানী’ অভিষেকের অবস্থানে লুকিয়ে রয়েছে অশনি-সংকেত
একুশের নির্বাচনে হারের পর থেকে বিজেপিতে একের পর এক ধাক্কা নেমে এসেছে। বঙ্গ বিজেপিতে বিদ্রোহের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলেছে। কিন্তু সেইসবকে ম্নান করে তৃণমূলের গৃহযুদ্ধ এখন রাজ্য রাজনীতিতে মুখরোচক উপাদান হয়ে উঠল। প্রশ্ন সেই একটাই তৃণমূল তুমি কার? তৃণমূল মমতার না অভিষেকের? সেই প্রশ্নে দু'ভাগে বিভক্ত রাজ্যের শাসকদল।

তখন লড়াই ছিল মমতার উত্তরসূরি কে হবেন
তৃণমূলে আগেও লড়াই ছিল, আগেও ছিল গোষ্ঠীদ্বন্ব্খ। কিন্তু তখন মমতার ডাকে সবাই এক হয়ে সাড়া দিতেন। তখন লড়াই ছিল মমতার উত্তরসূরি কে হবেন দলে। সেই লড়াইয়ে ছিটকে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিযোগীরা। তাঁরা এখন অনেকে দলে নেই, অনেকে দলে থেকেও নেই। গুরুত্ব হারিয়ে তাঁরা অভিষেকের ছায়ায় আচ্ছন্ন।

এবার যুদ্ধ রাজায়-রাজায়! প্রশ্নে তৃণমূলের অধিকার
কিন্তু সেই যুদ্ধ তো কোন ছার, এবার যুদ্ধ রাজায়-রাজায়। প্রশ্নে তৃণমূলের অধিকার। তবে কি একুশরে নির্বাচনে বিপুল সাফল্যলাভের পর তৃণমূলে ধরেছে ক্ষয়রোগ। যার জেরে আড়আড়ি বিভাজনের ‘রূপরেখা' তৈরি হয়ে গিয়েছে। ঠিক যেভাবে কংগ্রেস দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল রাজ্যে, তৃণমূলেও কার আভাস মিলতে শুরু করেছে! এখন দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আগুন নেভাতে পারেন কি না!

পিসি বনাম ভাইপোর লড়াইয়ে ফের ফাটল চওড়া
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড বাংলায় প্রদেশ বনাম যুব-র লড়াই থামাতে পারেনি। তার জেরে কংগ্রেস দ্বিখণ্ডিত হয়ে বাংলায় জন্ম হয়েছিল তৃণমূলের। সেই তৃণমূল সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ বাংলার ক্ষমতায়। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে এসে তৃণমূলে শুরু হয়েছে স্বার্থ-সংঘাত। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পিসি বনাম ভাইপোর লড়াইয়ে ফের ফাটল চওড়া হতে পারে তৃণমূলে।

কোনও বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অভিমানী অভিষেক!
সেইসঙ্গে আরও একটা প্রশ্ন উঠে পড়েছে, এখনই কি অভিষেক ভিন্ন কোনও দল তৈরির রাস্তায় হাঁটতে পারেন, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখে তিনি অন্য কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেবেন। অভিষেক বারবার বলছেন, তিনি দলের সৈনিক মাত্র। তাঁর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলে তাঁর সমর্থনে অনেকে মুখ খুলে জটিল করে দিচ্ছেন অবস্থান।

তৃণমূল বনাম তৃণমূল যুদ্ধ শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যজুড়েই
বাংলায় ১০৮টি পুরসভা ভোটের আগে হঠাৎ করেই তৃণমূল বনাম তৃণমূল যুদ্ধ শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যজুড়েই। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হচ্ছে তৃণমূলই। এই প্রবণতা বাংলায় মমতা বনাম অভিষেক যুদ্ধ জারি রেখেছে। আর তৃণমূলের এই সমীকরণ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন বিরোধী দলের নেতারা। বিজেপি থেকে সিপিএম-কংগ্রেসও বেশ মজা নিচ্ছে তৃণমূলের এই ‘গৃহযুদ্ধ'-এ।

তৃণমূলের অন্দরে চোরাস্রোত তৈরি হয়েছে, তাতেউ ফাটল
তৃণমূলের অন্দরের খবর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র অভিমানে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন। তিনি ঘনিষ্ঠমহলে এমন বার্তা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তিনি গোয়া নির্বাচন পর্ব মিটলে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তৃণমূলের অন্দরে যে চোরাস্রোত তৈরি হয়েছে, তার অবসান ঘটাতেই তিনি কোনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মমতা বনাম অভিষেক! তৃণমূলের আকাশে সিঁদুরে মেঘ
সম্প্রতি রাজ্যের পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই ফাটল তীব্রতর হয়। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। এই গোষ্ঠীকোন্দল নিচুতলার কোনও নেতা-নেত্রীর নয়। এই গোষ্ঠীকোন্দল একেবারে শীর্ষমহলের। মমতা বনাম অভিষেক। তৃণমূলের এই প্রবণতায় সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

তৃণমূলের বিরাট সাফল্যের ঝড় উঠছে দলের অন্দরে
তৃণমূলে আরও জটিলতা বা বিভাজন তৈরি হয়েছে প্রশান্ত কিশোর আসার পরে। প্রশান্ত কিশোরকে দলের ভোট কৌশলী করে এনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ষ। তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই একুশে সাফল্য এসেছে। ২০১৯-এর ভোটে সাফল্য পেয়ে টগবগ করে ফুটতে থাকা বিজেপিকে শুইয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলের সেই বিরাট সাফল্যের পরই ফের ঝড় উঠছে দলের অন্দরে।

সমান্তরাল দল চালাতে চাইছেন অভিষেক-পিকে!
সম্প্রতি তৃণমূলে অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশান্ত কিশোরকে সঙ্গী করে সমান্তরাল দল চালাতে চাইছেন। এমনকী তিনি নিজের সংসদ-ক্ষেত্র ডায়মন্ড হারবারে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছেন। ক্রমেই তৃণমূলে অভিষেকের বিরুদ্ধে পৃথক একটা গোষ্ঠী তৈরি হয়ে যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতারা অভিষেক-পিকের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সুব্রত বক্সি-সহ পুরোন নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে যায় অভিষেক ও প্রশান্ত কিশোরের।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন, দলে তিনিই শেষ কথা
সিনিয়র নেতারা যখন দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তথা জুনিয়র নেতাদের দাপাদাপিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন, দলে তিনিই শেষ কথা বলবেন। তারপর সাংগঠনিক নির্বাচনে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। কেউ যাতে হীনম্মন্যতায় না ভোগেন, তার জন্য বার্তা দেন।

নতুন এক জল্পনা বাসা বাঁধতে শুরু করেছে তৃণমূলে
তারপর প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে বলেও জোর রটনা তৈরি হয়। তারপর থেকে ফের নতুন এক জল্পনা বাসা বাঁধতে শুরু করেছে তৃণমূলের অন্দরে। একদিকে মমতা ও সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশ, অন্যদিকে অভিষেক-পিকের সঙ্গে অধিকাংশ যুব নেতারা। আড়াআড়ি বিভাজনের ছবি স্পষ্ট তৃণমূল কংগ্রেসে।

তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয়েছে সমান্তরাল দুটি দল
তৃণমূলের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের পিছনে অনেক সময় দিতে হচ্ছে ফের। তিনি সংগঠনকে ধরে রাখরা মতো কাউকে পা্ননি। যাঁদের উপর তিনি এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলেন, তাঁরা যে অপারগ তা নয়। তাঁরা সংগঠন চালাতে গিয়ে এমনই এক দ্বন্দ্বের মুখে হাজির যে দলের সংগঠনে সিনিয়র নেতারা তাঁদের ছড়ি ঘোরানো মানতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয়েছে সমান্তরাল দুটি দল। তাতেই অশনি সংকেত দেখছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications