সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে নির্বাচন কমিশন, অভিষেকের অভিযোগে শোরগোল
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আধিকারিকরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অধস্তনদের নির্দেশ দিচ্ছেন।
এক্স প্ল্যাটফর্মে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে অভিষেক বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারবার স্বচ্ছতা ও দফতরিক যোগাযোগের উপর জোর দিলেও, কমিশন তা মানছে না।

অভিষেকের কথায়, আমরা দেখছি, আনুষ্ঠানিক, সন্ধানযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশাবলী প্রচার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক সি মুরুগান হোয়াটসঅ্যাপে মাইক্রো অবজারভারদের জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানো।
অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, "মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা কঠোরভাবে সহায়ক হতে হবে, সুপ্রিম কোর্টের এই সুস্পষ্ট নির্দেশিকার কথা কি নির্বাচন কমিশনকে আবার মনে করিয়ে দিতে হবে?"
তিনি অভিযোগ করেন, বিধিবদ্ধ পদ্ধতি 'এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে'। নির্দিষ্ট জেলার রোল অবজারভারদের লগইন ডেটা কলকাতা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "লগইন ডেটা ব্যবহার করে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে এবং দিল্লির নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক প্রভুদের নির্দেশে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা হচ্ছে।"
অভিষেকের দাবি, "যদি বিষয়টি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হয়, তবে প্রমাণিত হবে যে লগইন ডিভাইসের টাওয়ারের অবস্থান ও আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট রোল পর্যবেক্ষকের প্রকৃত অবস্থান থেকে ভিন্ন।" তাঁর দল এই অভিযোগগুলো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিটিশন-সহ একাধিক মামলা বিচারাধীন।
কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নির্বাচন কমিশন জনগণের বিশ্বাস থেকে তার বৈধতা পায়, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়।" তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "দিল্লির জমিদারদের সাথে যারা যোগসাজশ করবে বা তাদের নির্দেশে কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রস্তুত থাকুন!"
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে 'তুঘলকি কমিশন' আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি রাজ্যের ভোটার তালিকা কারচুপির জন্য বিজেপি'র নির্দেশে কাজ করার অভিযোগও তুলেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications