অর্ডার ফিক্সিং চলছে! বিজেপির বেটিংয়ে দোসর কলকাতা হাইকোর্টের একাংশ, বিস্ফোরক অভিষেক
Abhishek Banerjee: শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আনলেন বিস্ফোরক অভিযোগ।
যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস সব সময় ছিল, আছে, থাকবে। কারও চাকরি যেতে দেব না। অভয়বাণী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ না করে অভিষেক বলেন, আদালতের বিচারপতি যিনি এই মামলা শুনছিলেন, তিনিই আজ বিজেপির প্রার্থী। তিনি বলেছিলেন বিজেপি তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিল, তিনিও বিজেপির সঙ্গে কথা বলেছেন। সেটা বিচারপতি থাকাকালীন। ফলে এটা স্পষ্ট পরিকল্পিতভাবে বিজেপির কথায় রায় দেওয়া হয়েছে।
অভিষেকের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের একাংশের সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশ রয়েছে। তিনি বলেন, আদালত বলেছে, প্যানেলের বাইরে থেকে চাকরি হয়েছে তাই পুরো প্যানেল বাতিল। আদালতের এই যুক্তি মেনে বলা যায়, তবে আমরা বলছি না যে একজন বিচারপতি বিজেপিতে গিয়েছেন, ফলে সব বিচারপতিই বিজেপি। ভারত থেকে কলকাতা হাইকোর্ট তুলে দেওয়া উচিত। কিন্তু আদালতের যুক্তি ধরলে তো তা-ই হচ্ছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১০, ১০০, ১ হাজার বা ৫ হাজার লোক দুর্নীতি করে থাকলে ৭ লক্ষ মানুষের একশো দিনের টাকা বন্ধ করে রাখা যায় না। আদালতের রায়ে যেভাবে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি গেল তাতে তো বিজেপিরই স্ট্যাম্প। যেভাবে চারজন দুর্নীতি করলে সকলের ১০০ দিনের টাকা আটকায়, তেমনই প্যানেলের বাইরে থেকে কিছু চাকরি হয়েছে বলে পুরো প্যানেলই বাতিল।
এরপরই অভিষেক বলেন, এই রায় দুর্ভাগ্যজনক, বেদনাদায়ক। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সপ্তাহের শুরুতে বোমা পড়ার কথা বললেন। সপ্তাহের শুরু সোমবার। সেদিন আদালতের রায় এলো। এটা কী কাকতালীয়? অন্যদিকে সোমবারই আমার উপর হামলার জন্য রেইকি করার জন্য একজন গ্রেফতার হলেন। তাহলে বিস্ফোরণ বলতে এই দুটোর মধ্যে একটা।
ওন্দা বিধানসভার বিধায়ক অমরনাথ শাখা বলেছেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৫৯ হাজারের চাকরি যাবে। এই পরিস্থিতিতে আমি যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অনুরোধ করব, বিব্রত হবেন না। দলগতভাবে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের পাশে ছিল, আছে, থাকবে। মেধাযুক্ত চাকরিপ্রার্থী, যাঁদের চাকরির প্রয়োজন, মেধার ভিত্তিতে কষ্ট করে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের চাকরি যেতে দেব না।
এরপরই অভিষেক তীব্র সমালোচনা করেন কলকাতা হাইকোর্টের একাংশের। তিনি বলেন, ছোটবেলায় বলতাম বলে বলে গেল দেব। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথাও তো সকলেই জানেন। বেটিংয়ে কেউ বলে পরের বলে ছয় হবে, সেটাই হয়। একইভাবে আউট, ইয়র্কার হয়। এখানে অর্ডার ফিক্সিং চলছে। কোর্ট ফিক্সিং চলছে। বেটিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কলকাতা হাইকোর্টের একাংশ। বিজেপি বেটিং করছে। তার দোসর বিচারব্যবস্থায় বিচারপতির আসনে থাকা কিছু বিচারপতি। তবে মানুষের কাছে সব কিছু পরিষ্কার। গণতন্ত্রে শেষ কথা মানুষ বলেন। তাঁদেরই জয় হয়, চক্রান্তকারীদের নয়।












Click it and Unblock the Notifications