‘যে সরকার শিক্ষকদের মারধর করে, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার আর কোনও মানে হয় না’: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ইস্যুতে ফের তীব্র হল সুর। একদিন আগেই সদিচ্ছা দেখিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কথা ছিল, রাজ্য সরকারকে সহায়তা করার জন্য নিজে উদ্যোগী হবেন। কিন্তু বুধবার চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল।
চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে লেখা চিঠি নিজেই ছিঁড়ে ফেললেন অভিজিৎবাবু। সেই সঙ্গে ঘোষণা করলেন, "আর কোনও সদিচ্ছা দেখানোর প্রশ্নই নেই"।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "যে সরকার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর লাঠি চালায়, তাদের সঙ্গে আলোচনার আর কোনও মানে হয় না। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। না হলে শনিবার থেকে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব"।
তিনি আরও বলেন, "আজ সকালে আমি এসএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আধ ঘণ্টা ধরে কথা বলেছি। সিবিআই-এর কাছ থেকে পাওয়া মিরর ইমেজের ভিত্তিতে ওএমআর শিট প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। পর্ষদ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে রাস্তায় নামতে বাধ্য হব"।
মঙ্গলবার অভিজিৎবাবু নিজেই জানিয়েছিলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং প্রস্তাবপত্র জমা দেবেন। কিন্তু বুধবার চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ, মারধর দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে যান বিজেপি সাংসদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, "সেই চিঠি আমি আর বিকাশ ভবনে নিয়ে যাব না। যারা শিক্ষকদের লাঠিপেটা করে, তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনও মূল্য নেই"।
"আমরা একটা ভদ্রাচারণ চেয়েছিলাম। যার জন্যে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকারের সময়ও স্থির করেছিলাম। শিক্ষামন্ত্রীর হাতে দেওয়ার জন্যে আবেদন পত্র নিয়ে এসেছিলাম। তবে রাজ্য সরকার যে অসহিষ্ণুতা দেখালো, যেভাবে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর লাঠিচার্জ, অত্যাচার করল, তারপর মনে হচ্ছে আর ভদ্র আচরণের কোনও মানে নেই"।
বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ডিআই অফিস ঘেরাও ও স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন চাকরি হারানো শিক্ষকরা। কসবার ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। সেই ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন প্রাক্তন বিচারপতি। এসএসসিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এখন দেখার, আগামী দুদিনে রাজ্য সরকার ও এসএসসি কী পদক্ষেপ নেয়।












Click it and Unblock the Notifications