মা ও ২২ দিনের মেয়েকে খুন করে পুকুরে দেহ! ঘরে কন্ডোম উদ্ধারে রহস্য আরও ঘনীভূত

একা মুর্শিদার পক্ষে এই খুন করা সম্ভব নয়। এর পিছনে রয়েছে অন্য কারও হাত। ঘর থেকে ব্যবহৃত কন্ডোম উদ্ধারের পর পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়েছে তা নিয়ে।

বারুইপুর দিদিমা-নাতনি খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়। মুর্শিদাই মা ও নিজের শিশুকন্যাকে খুন করে দেহ ফেলে দেয় পুকুরে। পুলিশ জেরার মুখে মুর্শিদা স্বীকার করেছেন এই জোড়া খুনের ঘটনা। পুলিশ মনে করছে, একা মুর্শিদার পক্ষে এই খুন করা সম্ভব নয়। এর পিছনে রয়েছে অন্য কারও হাত। ঘর থেকে ব্যবহৃত কন্ডোম উদ্ধারের পর পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়েছে তা নিয়ে।

মা ও ২২ দিনের মেয়েকে খুন করে পুকুরে দেহ! ঘরে কন্ডোম উদ্ধারে রহস্য আরও ঘনীভূত

পুলিশের কাছে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন মা-মেয়েকে খুন করল মুর্শিদা? এই খুনের মোটিভ জানাই এখন লক্ষ্য পুলিশের। মুর্শিদার স্বামীকেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মুর্শিদাকে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই ঘটনার পিছনে কোনও অবৈধ সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে কি না।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের উত্তরভাগে চক্রবর্তী আবাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ কতকগুলি মিসিং লিঙ্ক খুঁজে পায়। প্রথম কথা সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মুর্শিদাকে। তাকে যদি কেউ সেপটিক ট্যাঙ্কে আটকে রেখে হামলা চালায় বা খুনের চেষ্টা করে, তবে তারা সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকা বন্ধ করে যেত, কিন্তু তা বন্ধ ছিল না।

দ্বিতীয়ত নেহাতই সাদামাটা অ্যাজবেস্টরের চালা দেওয়া মাটির বাড়ি। সেই বাড়িতে এমন কিছুই ছিল না, যা লুঠ করতে আসবে দুষ্কৃতীরা। অথচ ঘটনা বৃত্তান্ত এমন সাজানো হয়েছিল, যেন দুষ্কৃতীরা লুঠপাট চালাতে এসে বৃদ্ধা মাকে খুন করে যায়, তাঁর ২২ দিনের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপরই ঘর থেকে উদ্ধার হয় একটি ব্যবহৃত কন্ডোম। তাতেও পুলিশের সন্দেহ বাড়ে, এই ঘটনা মুর্শিদারই কারসাজি হতে পারে।

সেইমতো মুর্শিদাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। জেরার মুখেই সে স্বীকার করে ২২ দিনের শিশুকন্যার দেহ ছিল মায়ের দেহের পাশেই। একই জায়গায় ফেলে দেওয়া হয় দিদা-নাতনির দেহ। এরপরই পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে ২২ দিনের শিশু কন্যার দেহ উদ্ধার করে। ওই পুকুর থেকেই উদ্ধার হয়েছিল সায়েরা বেওয়ার মৃতদেহ।

পুলিশি জেরায় মুর্শিদা বিবি এরপর স্বীকার করে নেয়, রাগের বশে সে-ই ভারী বস্তু দিয়ে মা সায়েরা বেওয়াকে খুন করেছে। তারপর গলা টিপে খুন করেছে ২২ দিনের শিশুকন্যাকে। মেয়েকে খাওয়ানো নিয়ে ঝগড়ার জেরেই সে খুন করে। দেহ ফেলে দিয়ে আসার পর, নিজেই নিজের পায়ে আলগা করে দড়ি বেঁধে সেপটিক ট্যাঙ্কে ঢুকে যায়। কিন্তু সেপটিক ট্যাঙ্কের মুখে প্লাস্টিক দেওয়া ছিল, কোনও ঢাকনা ছিল না।

তাঁর স্বামী এসে হাঁকডাক করার পরই গোঙানির শব্দ করতে থাকে মুর্শিদা। স্বামীর কাছে নিজের কর্মকাণ্ড করতে নাটক শুরু করে সে। কিন্তু কেন সে এই ঘটনা ঘটাল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। পুলিশ মুর্শিদা ও আজিজুলকে জেরা করে, তা বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনা. তৃতীয় কোনও ব্যক্তির হাত রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+