রক্তে ভিজে যাচ্ছে পোশাক, অসহ্য যন্ত্রণা..., তবু তিন ডাকাতকে রুখলেন একা ‘সাহসিনী’
এক নারীর বীরত্বের কাহিনি। না-না, কাহিনি নয়, একেবারেই খাঁটি বাস্তব। এই বীরাঙ্গনা একা হাতে রুখে দিলেন তিন ডাকাতকে। ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে শরীর।
এক নারীর বীরত্বের কাহিনি। না-না, কাহিনি নয়, একেবারেই খাঁটি বাস্তব। এই বীরাঙ্গনা একা হাতে রুখে দিলেন তিন ডাকাতকে। ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে শরীর। রক্তে ভিজে গিয়েছে পোশাক, অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি বিচলিত হননি। একা হাতে রুখে দিয়েছেন ডাকাতকে। শুক্রবার রাতে হাওড়া স্টেশনে ঘটে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
উত্তরপাড়ার বাসিন্দা সোনু শর্মা আলিপুরের এক বাড়িতে রান্নার কাজ সেরে ফিরছিলেন রাতের ট্রেনে। উঠেছিলেন ১০টা ২০-র ব্যান্ডেল লোকালে। মহিলা কামরায় একাই ছিলেন তিনি। সেই সুযোগটাই নেয় তিন দুষ্কৃতী। বগিতে উঠেই মহিলার কাছ থেকে মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা।

বাধা দিতে গেলে অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে সোনুকে। তখনই এক ডাকাতকে জাপটে ধরে জুড়ে দেন আর্ত চিৎকার। ট্রেন তখন পৌঁছে গিয়েছে স্টেশনে ছেড়ে কারশেডে। অন্য কামরার যাত্রীরাও বুঝে গিয়েছেন পাশের কামরায় মহিলার কোনও বিপদ হয়েছে। তখনই চেন টেনে ট্রেন থামান তাঁরা।
এরপর ট্রেন থামতেই ছুটে আসেন যাত্রীরা। ছুটে আসেন কারশেডের কর্মীরাও। ওই ডাকাতকে পাকড়াও করে উত্তম-মধ্যম দেন যাত্রীরা। তারপর রেল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাকি দুই ডাকাত ট্রেন থামার আগেই চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। ধৃত ডাকাতকে জেরা করে অন্যদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে সাহসিনী সোনুকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ডাকাতের নাম গুড্ডু সিং। এর আগেও ডাকাতির মামলা ধরা পড়েছিল সে। তিনদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। আর ছাড়া পেয়েই ফের পুরনো পেশায়। ফের তাকে জেলে যেতে হল। পুলিশ এখন খোঁজ চালাচ্ছে গুড্ডুর সহযোগীদের। এই ঘটনায় রাতের ট্রেনে নিরাপত্তা ফের প্রশ্নের মুখে।












Click it and Unblock the Notifications