‘বিজেপিতে যোগ দিতে পারি ‘জয় শ্রীরাম’ বলব না’, জয়ের গন্ধে শর্তে রাজি পদ্মশিবির
পশ্চিমবঙ্গে ‘চলো পাল্টাই’য়ের ডাক দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে এখন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিকে বিসর্জন দিতেও আপত্তি নেই নেতৃত্বের। সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে উঠে এসেছে সেই সত্যই।
'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিই বিজেপির নবজাগরণের মন্ত্র। 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি তোলো, আর বিস্তারের দিকে এগিয়ে চলো, এই নীতিতে বিশ্বাসী বিজেপি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে 'চলো পাল্টাই'য়ের ডাক দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে এখন 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিকে বিসর্জন দিতেও আপত্তি নেই নেতৃত্বের। সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে উঠে এসেছে সেই সত্যই।

বিজেপি আসন্ন লোকসভায় ২২টি আসন জয়ের টার্গেট করেছে। সেই টার্গেটে রয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কেন্দ্রও। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি চাইছে এই কেন্দ্রে জয়ের সরণিতে ফিরছে। সেই কারণে মুসলিম ভোট করায়ত্ত করাই মূল লক্ষ্য। আর তা করতে গিয়েই 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিকেও জলাঞ্জলি দিতে প্রস্তুত বিজেপি।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভালুকা জোয়ানিয়া পঞ্চায়েতের সদ্য জয়ী এক সদস্য বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু তিনি বিজেপি নেতৃত্বকে শর্ত দিয়েছেন। শর্ত এই যে- তিনি 'জয় শ্রীরাম' বলবেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, 'জয় শ্রীরাম' যদি কেউ না বলতে চায়, না বলুক। আপত্তি নেই।
নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহাদেব সরকারের কথায়, রামচন্দ্র তো ন্যায় ও সত্যের প্রতীক। তবে কেউ যদি 'জয় শ্রীরাম' বলতে না চান, আমরা আপত্তি করব না। তাঁর এই কথাতেই পরিষ্কার বিজেপির লক্ষ্য সংখ্যালঘু ভোট, তাতে 'জয় শ্রীরাম'-এর পথ থেকে সরতে হলেও আপত্তি নেই। মোট কথা, মিশন ২০১৯-এ লক্ষ্যে স্থির বিজেপি।
২২টি আসনে জয়ের টার্গেট নিয়ে যে দল চলছে, তার মধ্যে য়ে কটি আসনে সত্যিকারের জয়ের গন্ধ আছে, সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে বিজেপি। তার মধ্যে নদিয়ার কৃষ্ণনগর একটি আসন। এবার পঞ্চায়েতে এই কেন্দ্রে ভালো ফল করেছে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বকে সাবধান করেছে এ ব্যাপারে।
কিন্তু বিজেপি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে আগে থেকেই। তাদের মধ্যেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। যে কেরই হোক সেসব মিটিয়ে তৃণমূলের তৈরি ফাঁক দিয়ে জয়ের সরণিতে ফিরতে চায় বিজেপি। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্র থেকে জিতে সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় ওরফে জুলুবাবু কেন্দ্রীয়মন্ত্রী হয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications