কলকাতা ময়দানের প্রখ্যাত ফুটবলারের হোটেলে নৃশংস খুন! চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সহকর্মীর দুর্নীতির ধরে ফেলেছিলেন বলেই খুন হতে হল ম্যানেজারকে। অভিযোগের তির হোটেলের বার ম্যানেজার শেখ রেহানের দিকে।
হোটেল ম্যানেজারকে নৃশংসভাবে খুন করে খালের জলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল মন্দারমণিতে। এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমণি পর্যটনকেন্দ্রে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম দেবাশিস ঘোষ (৫২)। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির বাসিন্দা। বিগত কয়েক বছর ধরে দেবাশিসবাবু কাজ করছিলেন হোটেল ম্যানেজার পদে। এই হোটেলটি কলকাতার প্রখ্যাত ফুটবলার দেবজিৎ ঘোষের। তাঁর হোটেলেই ঘটে গেল নৃংশস খুনের ঘটনা।
পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সহকর্মীর দুর্নীতির ধরে ফেলেছিলেন বলেই খুন হতে হল ম্যানেজারকে। অভিযোগের তির হোটেলের বার ম্যানেজার শেখ রেহানের দিকে। অভিযুক্ত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ম্যানেজার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সহকর্মীর কু-কীর্তির কথা তিনি মালিককে জানিয়ে দেবেন। তারই জেরে ম্যানেজারকে খুনের পরিকল্পনা কষে বার ম্যানেজার। সে নিজের মুখেই স্বীকার করেছে, দেবাশিসবাবুকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর গাড়িতে করে কাঁথির সাতমাইল খালের জলে ফেলে দেয়।
এরপর বৃহস্পতিবার কাঁথি-এগরা সড়কের সাতমাইল খালে অজ্ঞাত পরিচয় একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে। এবং তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চালায়। তখনই জানা যায় ওই দেহটি দেবাশিস ঘোষ নামে মন্দারমণির একটি হোটেল ম্যানেজারের।
দেবাশিসবাবু হোটেল বার ম্যানেজার ধরে ফেলেছিলেন রেহান দীর্ঘদিন ধরেই টাকা-পয়সা তছরূপ করছে, তার প্রমাণও পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরই রেহানকে বলেছিলেন তার কু-কীর্তি ফাঁস করে দেওয়ার কথা। তা নিয়ে বুধবার ব্যাপক ঝামেলা হয় দুজনের মধ্যে। সেই ঝামেলাই শেষপর্যন্ত খুন পর্যন্ত গড়ায়।
অভিযুক্ত শেখ রেহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতকে শনিবার কাঁথি মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ এই ঘটনার পিছনে আর কেউ রয়েছে কি না, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবারই হোটেলের বন্ধ ঘরে পর্যটকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় দিঘায়। হুগলির বাসিন্দা অরূপকুমার মাইতি (৪৭)-র দেহ উদ্ধারের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মন্দারমণির হোটেল ম্যানেজার খুন হলেন। সমুদ্রনগরী দিঘার পর্যটন কেন্দ্র ক্রমেই আতঙ্কনগরী হয়ে উঠছে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে ও আত্মহত্যার জেরে।












Click it and Unblock the Notifications