দাদু-দিদাকে অনুসরণ করে বন্যার জলে, হরিশ্চন্দ্রপুরে তলিয়ে গেল শিশু
বন্যার জলে স্নান করতে নেমে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের পিপলাতে তলিয়ে গেল এক বালক। ঘটনার পরই জলের নেমে তল্লাশি চালায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কিন্তু, বালকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
খুব ধীরে হলেও এখন বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকে। কিন্তু, এরই মধ্যে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বন্যার জলে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল বছর সাতেকের শিশু। মঙ্গলবার এই ঘটনা হরিশ্চন্দপুরের পিপলায়। বন্যায় পিপলা গ্রামেরই একটা অংশ জলের তলায় চলে গিয়েছে। শুভ দাস নামে ওই শিশুদের ভিটেমাটিও জলের তলায় চলে যায়। দাদু-দিদা এবং মায়ের সঙ্গে পিপলা হাইস্কুলের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল শুভরা।

জানা গিয়েছে, স্কুলের সামনেই পিপলা ব্রিজের পাশে খালে স্নান করতে নেমেছিলেন শুভর দাদু-দিদা। ব্রিজের উপরে খেলা করছিল সাত বছরের শুভ। বন্যার জলে খাল পুরো টইটম্বুর। তারমধ্যে জলের প্রবল স্রোত। আচমকাই খালের ধারে নেমে আসে শুভ। দাদু-দিদার মতো সেও বন্যার জলে স্নান করবে বলে জেদ ধরে। দাদু-দিদার জলের মধ্যে থেকেই নিষেধ করতে থাকেন শুভকে। কিন্তু, আচমকাই শুভ খালের জলে নেমে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। ব্যাস, মুহূর্তের মধ্যে জলের স্রোতে তলিয়ে যায় সে।


স্থানীয়রা জলে নেমে তল্লাশি শুরু করেও শুভর হদিশ পাননি। এরপর ঘটনাস্থলে আসে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সন্ধ্যের আগে পর্যন্ত খালের মধ্যে তল্লাশি চালিয়েও তাঁরা শুভর হদিশ পাননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বন্যার জলে ব্রিজের তলায় ঘূর্ণি তৈরি হয়েছে। শুভ জলের স্রোতে ওই ঘূর্ণির দিকেই ভেসে গিয়েছিল। সাত বছরের ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন শুভর মা। সম্প্রতি শুভর বাবাও মারা গিয়েছে। বন্যার জলে যেন কেন স্নান করতে নামলেন তাই নিয়ে এখন নিজেদের দোষারোপ করছেন শুভর দাদু-দিদা। পিপলা স্কুলেরই ছাত্র ছিল শুভ। মর্মান্তিক এই ঘটনা শোকের ছায়া এখন পিপলা গ্রামে। এর আগে হরিশ্চন্দ্রপুরে বন্যার প্রথম দিনে রাস্তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল বছর দশেকের এক বালক। কিছুদিন আগেই হরিশ্চন্দ্রপুরে জলের মধ্যে ভেসে যাওয়া জামা আনতে গিয়ে ভেসে যায় আরও এক শিশু। তারপরই ফের বন্যার জলে আরও এক শিশুর ভেসে যাওয়ার ঘটনা।













Click it and Unblock the Notifications