রেকর্ডে মৃত! বার্ধক্য পেনশন ছাড়াই কঠিন জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ, এ কাহিনি বড়োই করুণ
বেশ চলছিল। দু-বছর আগে পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পেনশন পাচ্ছিলেন। গায়ে-গতরে খেটে কোনোরকমে দিন গুজরান হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ জীবিত বিজয় হাতি হয়ে গেলেন মৃত। বন্ধ হয়ে গেলন পেনশন। তারপরই শুরু হল নতুন জীবন যুদ্ধ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ধোলতের তেল গ্রামের বাসিন্দা বিজয় হাতি। স্ত্রী এবং অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে তিনি কঠিন জীবন কাটাচ্ছেন। রেকর্ডে তাঁকে মৃত ঘোষণা করার কারণে দু'বছর আগে তাঁর পেনশন বন্ধ হয়ে যায়। তারপরই পরিবারটি দিন কাটাচ্ছে কোনোরকমে অর্ধাহারে।

এক কামরা মাটির ঘর। তাও ভগ্ন। ছাদ থেকে খসে পড়েছে মাটি। তারই মধ্যে অসুস্থ ছেলে কুঁড়েঘরের কোণে শুয়ে রয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও জীর্ণ কম্বল দিয়ে ঢাকা শরীর। অসুস্থ ছেলের জন্য ওষুধ কেনার টাকা নেই বৃদ্ধ বাবার কাছে। নেই দু-বেলা খাওয়ার টাকাও।
তিনি তো পেনশন পেতেন, কিন্তু পেনশন বন্ধ হয়ে গেল কেন? দু'বছর আগে বিজয় পশ্চিমবঙ্গ পেনশন স্কিমের অধীনে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা পেনশন পাচ্ছিলেন। দীর্ঘ দশ বছর ধরে তারা পেনশন পেয়ে আসছিলেন। তাতে অনেকটাই লাঘব হচ্ছিল সমস্যা।

সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা সত্ত্বেও কেন বন্ধ করা হল, তা বোধগম্য হয়নি তাঁর। দৌড়-ঝাঁপ করে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে পাবলিক রেকর্ডে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর তিনি তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন।
তখনই তিনি প্রথমবার শোনেন রেকর্ডে তাঁকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজয় হাতি নিজে মৃত বলে জেনে হতবাক হয়ে যান। কিন্তু বিডিওকে সশীরের গিয়ে নিজের জীবদ্দশার প্রমাণ দিলেও চালু হয়নি পেনশন। অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের।
ওয়েস্ট বেঙ্গল পেনশন স্কিম কি? এই পেনশন স্কিম হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ, যা রাজ্যের বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য একটা ব্যবস্থা। যাঁরা নিজেদের অর্থ সংস্থানে অক্ষম, তাঁদের জন্য এই অবস্থা। মাসিক প্রকল্পের অধীনে যোগ্য সুবিধাভোগীদের ১০০০ টাকা পেনশন দেওয়া হয়।

যাতে তাঁদের মৌলিক চাহিদা মেটে, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। স্কিমের জন্য যোগ্য হওয়ার জন্য, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী, বিধবা বা প্রতিবন্ধী হতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট আয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
এই প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ বিভাগ দ্বারা বাস্তবায়িত হয় এবং রাজ্যের সংশ্লিষ্ট ব্লক উন্নয়ন অফিস বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনগুলিতে আবেদন জমা করার পর পেনশন স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications