21 July Shahid Diwas: শুভেন্দুর তথ্যে শঙ্কায় তৃণমূল? মমতার মুখে কাল বা পরশু থেকে কাদের সক্রিয় হওয়ার কথা?
21 July Shahid Diwas: একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিবের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হন। এবারের ২১ জুলাই পার্থ কাটালেন জেলে।
এবার একুশের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেও উঠে এলো আশঙ্কারই কথা। গ্রেফতারির আশঙ্কা।

মমতার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী মলয় ঘটক বহুবার ইডির হাজিরা এড়িয়েছেন দিল্লিতে। আজ তিনি ধর্মতলার সমাবেশস্থলে এলেও আড়ালেই রইলেন। ক্যামেরায় ওঠেনি তাঁর ছবি। সামনের সারিতেও ছিলেন না। বক্তব্যও রাখেননি। তবে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্তের আওতায় থাকা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভানেত্রী সায়নী ঘোষ বক্তব্য রেখেছেন।
কৃষ্ণ কল্যাণীর বাড়ি ও অফিসে আয়কর হানা চলেছিল। রায়গঞ্জের দলবদলু বিধায়ক ছিলেন একুশের মঞ্চে। ফিরহাদ হাকিমের পুর দফতরেও দুর্নীতির সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদিনের মঞ্চে বক্তাদের তালিকায় ছিলেন ফিরহাদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ইডি যাতে কোনও ব্যবস্থা নেয় তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার শুনানি রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারদা-সহ চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সরাসরি যুক্ত ও সুবিধাভোগী বলে দাবি করে সিবিআইয়ের নতুন ডিরেক্টরকে চিঠি পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন পর কেন শুভেন্দু সরব হলেন তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শুভেন্দুকে জেরা করার দাবিও উঠেছে। সেই প্রসঙ্গেই এদিন বিস্ফোরক তথ্য দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
তিনি বলেন, দশ বছর কোনও কাজ হয়নি বলে সিবিআইকে চিঠি লিখেছি। তদন্তে গতি আসুক। জেলের ভিতর থেকে সুদীপ্ত সেনকে দিয়ে আমার, বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নামে লেখাতে পারে, ফলে এক যাত্রায় পৃথক ফল তো হয় না। আমি সব তথ্য দিয়েছি। শুভেন্দুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়কেও তো ডাকতে হবে।
শুভেন্দু বলেন, ২০১১ সালে উপেন বিশ্বাস বাদে তৃণমূলের সব প্রার্থীকে তৃণমূল ভবনে বসে ২০ লক্ষ করে টাকা দিয়েছিলেন মুকুল রায়। বারুইপুর ব্রাঞ্চ থেকে বস্তা করে সারদার টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সারদার টাকায় অ্যাম্বুল্যান্স, মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রমাণ, ডেলোর বৈঠকের কথোপকথন, জাগো বাংলা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের কাদের জেরায় ডাকা হয়েছিল সব তথ্য দিয়েছি।

জেলে থাকা এক বন্দি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী বলেছিলেন। সেই সব প্রমাণের পাশাপাশি তারা বাংলা চ্যানেলকে মমতার টাকা দেওয়ার কথাও সিবিআইকে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, চিফ মিনিস্টারস রিলিফ ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে টাকা দিয়েছেন সুদীপ্ত সেন, গৌতম কুণ্ডুরা। শুভেন্দু বলেন, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট হয়েছে। ফাইনাল চার্জশিট তো হয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, বিজেপি চ্যানেলগুলো কিনে নিয়েছে। তাদের হয়ে না বললে ইডি, সিবিআই ইনকাম ট্যাক্স হানা দেবে। কাল-পরশু থেকে এখানেও শুরু হয়ে যাবে। জেনেশুনেই লড়াইয়ে নেমেছি। হয় আমাকে বা আপনাকে জেলে পুরবে। কিন্তু তৃণমূলকে শেষ করতে পারবে না। তৃণমূলকে, ভারতকে, ইন্ডিয়াকে শেষ করার ক্ষমতা ওদের নেই।

মমতা বলেন, বিজেপির এখন প্ল্যান হচ্ছে পুলওয়ামার মতো কিছু ঘটনা ঘটানো। এ জন্য ফেক ভিডিও, সিনেমা, নাটক বানাবে। সেই ভিডিও করে বাংলাকে অসম্মান করার চক্রান্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী মণিপুরের সঙ্গে বাংলা, রাজস্থান ছত্তীসগঢ়ের নাম করেছেন। মণিপুরের ঘটনায় আপনি ব্যথিত নন? বাংলার দিকে অঙ্গুলিহেলন করছেন!
মোদীকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, মা-বোনেদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা নেই! বেটি, দলিত জ্বলেগা, মাইনরিটি মরেগা, এসসি মরেগা। বিজেপি হত্যার সওদাগর। আমরা মণিপুর নিয়ে ছাড়ব না। এখানে কাক চেঁচালেও সেন্ট্রাল টিম পাঠায়। সব কিছুতে আমাদের লোকজনকে অ্যারেস্ট করানো হয়। এক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, বাংলার রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরিকল্পনা করছেন।
সরকার ও দল যে আলাদা সে কথা মোদীকে স্মরণ করিয়ে দেন মমতা। বলেন, আপনি বিদেশে গিয়ে দেশের কথা বলে কান্নাকাটি করেন। কিন্তু দেশের মানুষ যে আপনার জন্য কাঁদছেন তাঁদের নিয়ে কী বলবেন? ২৬ দলের বিরোধী জোট একমত হলে মুখ্যমন্ত্রীদের দলের সঙ্গে মণিপুর যেতে চান মমতা। কথা হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও।












Click it and Unblock the Notifications