১৬ কোটির কারবার! কোন কাজে I-PAC নিয়েছে? সব ফাঁস করলেন শুভেন্দু, বললেন চেক নম্বরের কথাও
I-PAC (Indian Political Action Committee)-এর অফিসে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় উঠেছে। তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আজ দুপুরেই এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই বিষয়টি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ যে, দুর্নীতির টাকা সরাসরি I-PAC-এর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। যার পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

ইডি তল্লাশি ঘিরে দিনভর নাটক
গতকাল সকালে দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার সূত্র ধরে I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। আর ঠিক তার পরেই ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ইডি আধিকারিকরা যখন প্রতীক জৈনের বাড়ির ভিতরে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হন। তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ঘটনা এই রাজ্যে আগে কখনও দেখা যায়নি। আর সেই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।বিরোধীদের মধ্যে তীব্র আক্রমণ শুরু হয়। পরে ইডি অভিযোগ তোলে যে, তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, ইডি-র তল্লাশিতে বাধা দেওয়া একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। তাঁর দাবি, I-PAC-এর বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, "কেন্দ্রীয় প্রকল্প 'জল জীবন মিশন'-এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা পেয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনও কাজই হয়নি। ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজের বরাত পেয়েছিল একটি সংস্থা। সেই সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকার কাজ।"
বিরোধী দলনেতার দাবি যে, "ওই টাকার মধ্যেই কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্ক থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি I-PAC-এর একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে।" শুধুমাত্র অভিযোগই নয়, নাকি ওই লেনদেনের চেক নম্বর পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি যে, মুখ্যমন্ত্রী আদতে তল্লাশি চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে নিতে পারেননি। শুভেন্দুর কথায়, "যে প্রস্তাবিত প্রার্থী তালিকার কথা বলা হচ্ছে, সেটার কপি অনেকের কাছেই আছে। আর যে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে কী ছিল, সেটা কেউ জানে না।"
সব মিলিয়ে , I-PAC ইডি-র তল্লাশি এবং জল জীবন মিশন ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন সম্পূর্ণ নজর কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির দিকেই।












Click it and Unblock the Notifications