পেপসি, মাইক্রোসফট, অ্যাডোব... বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি ১২ ভারতীয়!

বিশ্বের অর্থনীতির চালিকাশক্তি বলে পরিচিত, এমন ১২টি কর্পোরেট কোম্পানির শীর্ষ আসনে এখন রয়েছেন ভারতীয়রা। এঁদের কারও পড়াশুনো কলকাতায়, কারও দিল্লিতে, কারও আবার আমেদাবাদে।
ইন্দ্রা নুয়ি। পেপসির সিইও। চেন্নাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রার উচ্চশিক্ষা কলকাতায়। জোকার আইআইএম থেকে পড়াশুনো শেষ করে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রাখেন তিনি। তার পর একটা একটা করে ধাপ পেরিয়ে আজ পেপসির শীর্ষে। কোকা কোলার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যখন পেপসি পিছিয়ে পড়ছিল, তখন তিনি রাশ ধরেন। তার পর পেপসি আবার ঘুরে দাঁড়ায়।
সত্য নাদেল্ল। মাইক্রোসফটের সিইও। হায়দরাবাদের ছেলে। হায়দরাবাদের বেগমপেটে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশুনো শেষ করে মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। তার পর আরও পড়াশুনোর জন্য পাড়ি দেন মার্কিন মুলুকে। সান মাইক্রোসিস্টেমে চাকরি নেন। ১৯৯২ সালে তিনি মাইক্রোসফটে যোগ দিয়েছিলেন। তার পর বাকিটা ইতিহাস।
আমরা যে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি, তা হয় ভিসা অথবা মাস্টার কার্ড। আর এই মাস্টার কার্ডের সিইও পদে রয়েছেন একজন ভারতীয়। অজয় বাঙ্গা। পাঞ্জাবের ছেলে অজয় বাঙ্গার পড়াশুনো দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে। শুধু পানিপুরী মানে ফুচকার টানে আজও ছুটে আসেন দেশে!
রাকেশ কাপুর। রেকিট বেঙ্কাইজারের সিইও। ভাবছেন এটা আবার কোন কোম্পানি? ডেটল ব্যবহার করেননি, এমন মানুষ কম আছেন। সেই ডেটল বানায় রাকেশ কাপুরের কোম্পানি। এছাড়া গলাব্যথার ওষুধ স্ট্রেপসিল, ডিউরেক্স কন্ডোম ইত্যাদিও এদের তৈরি। দিল্লির ছেলে রাকেশ কাপুর। পড়াশুনো দিল্লির মডার্ন স্কুলে।
অংশু জৈন রয়েছে ডয়েশ্চ ব্যাঙ্কের সিইও পদে। ছেলেবেলায় প্রচণ্ড দুরন্ত ছিলেন। দিল্লি পাবলিক স্কুলে পড়াশুনো। বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা হত। সেই ছেলে আজ দুনিয়ার অন্যতম বড় ব্যাঙ্কের মাথায় বসে আছেন।
দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের ছাত্র ইভান মেনেজেস এখন ব্রিটিশ মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিও-র সিইও। সুরাপ্রেমীরা ভাবতে পারেন, এরা আবার কী ধরনের মদ বানায়? এক নজরে দেখে নিন। রেড স্ট্রাইপ, টাস্কার, জনি ওয়াকার, হোয়াইট হর্স, ভ্যাট ৬৯, স্মার্ন অফ, পোপোভ, ক্যাপ্টেন মর্গান ইত্যাদি।
একইভাবে ডিবিএস ব্যাঙ্কের সিইও পদে রয়েছেন পীযূষ গুপ্তা। ইনিও দিল্লির ছেলে।
অজিত জৈন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে-র অন্যতম বড় কর্তা। ওডিশার জন্ম তাঁর। পড়াশুনো করেছেন আইআইটি খড়গপুরে।
অডিও সিস্টেম তৈরি করে যে হার্ম্যান ইন্টারন্যাশনাল, তার সিইও এখন দীনেশ পালিওয়াল। ইনি আইআইটি রুরকিতে পড়াশুনো করেছেন।
অ্যাডোব ফটোশপ, অ্যাডোব রিডার, অ্যাডোব পেজমেকার ইত্যাদি নামগুলির সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত। সেই অ্যাডোব কোম্পানির মাথায়ও রয়েছেন ভারতের ছেলে। শান্তনু নারায়ণ। অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষ তিনি। হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো।
মেমরি কার্ড, সিডি ইত্যাদি প্রস্তুতকারী সংস্থা সান ডিস্কের সিইও পদেও একজন ভারতীয়। তিনি হলেন সঞ্জয় মেহরোত্রা।
আর এক বিদেশি সংস্থা ইগন জেনডারের সিইও পদে রয়েছেন রাজীব বাসুদেব।
মূলত ভারতীয়দের মেধা ও নিষ্ঠাই তাঁদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে অন্যান্য দেশের চেয়ে। অন্তত কর্পোরেট দুনিয়ার এটাই মত। এই ১২ জনের সব্বার বেতনই চোখ ছানাবড়া করে দেবে আপনার। যেমন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেল্ল এখন বছরে ১১২ কোটি টাকা বেতন পাচ্ছেন! ইন্দ্রা নুয়ির বার্ষিক বেতন হল ৭০ কোটি টাকা! অন্যান্য ভাতা, বাংলো ইত্যাদি না হয় বাদই দেওয়া গেল!












Click it and Unblock the Notifications