অস্ট্রেলীয় ওপেনে টয়লেট ব্রেকের নিয়ম বদলের দাবি
অস্ট্রেলীয় ওপেন: প্রস্রাবের অনুমতি না পেয়ে ক্ষিপ্ত কানাডিয়ান টেনিস তারকা
লকডাউনে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। সেই সুবাদে জনপ্রিয় হন কলকাতার চা-কাকু। তিনি বলেছিলেন, আমরা কি চা খাব না? খাব না আমরা চা? ঠিক সেভাবেই অস্ট্রেলীয় ওপেনে কানাডিয়ান টেনিস তারকা যেন বললেন, আমি কি টয়লেটে যাব না? যাব না আমি টয়লেটে? গ্র্যান্ড স্লামের কোর্টে যা হল তার নজির এর আগে নেই বললেই চলে।

জমজমাট লড়াই, ঘটনার প্রেক্ষাপট
কানাডার ডেনিস শাপোভ্যালভ ম্যাচ খেলছিলেন ইতালির জানিক সিনারের বিরুদ্ধে। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ চলছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে। ম্যাচ শেষ হতে মধ্যরাত পেরিয়ে যায়। শাপোভ্যালভ এই মুহূর্তে বিশ্বের ১১ নম্বর টেনিস খেলোয়াড়। তাঁকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেন ইতালির ওই টিনএজার। প্রথম সেট ৩-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন ডেনিস, পরের দুটি সেট আবার জেতেন ৬-৩, ৬-২ ব্যবধানে। কিন্তু চতুর্থ সেটে তিনি আবার পিছিয়ে পড়েন। ৪-৬ ব্যবধানে চতুর্থ সেটে পিছিয়ে পড়ার পর টয়লেট ব্রেক চান ডেনিস। তখনই বিপত্তি।
ঠিক কী হয়েছিল?
ডেনিস শাপোভ্যালভ টয়লেট ব্রেক চাইতেই তা নাকচ করে দেন জার্মান আম্পায়ার নিকো হেলওয়ার্থ। এরপরই তাঁর দিকে এগিয়ে যান ডেনিস। বলতে থাকেন, আমি টয়লেটে গেলে কী হবে? আমার কি জরিমানা হবে? আমি পরোয়া করি না! আপনি কী বলতে চান? আমি টয়লেটেও যেতে পারব না? আপনি কি আমাকে টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেবেন? সোজা কথায় বলছি, আমি প্রস্রাব করার জন্য বাইরে যেতে চাই। কিন্তু নিয়ম দেখিয়ে আম্পায়ার নাছোড়বান্দা দেখে গলার সুর আরও চড়ান ডেনিস। বলতে থাকেন, ঠিক আছে আমি তাহলে প্যান্টে বা কোনও বোতলে প্রস্রাব করি!
টয়লেট ব্রেকের নিয়ম
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নিয়ম রয়েছে, যদি তিন সেটের লড়াই হয় তবে কোনও সেটের মধ্যে মাত্র একবারই টয়লেট ব্রেক নিতে পারেন কোনও খেলোয়াড়। লড়াই পাঁচ সেটের হলে দুটি টয়লেট ব্রেক বৈধ। এই ম্যাচটি পাঁচ সেটের হয়, চলে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে। ডিহাইড্রেশনের সমস্যা এড়াতে ম্যাচ শুরুর আগে বেশি করে জল পান করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ডেনিস। তার ফলেই এই ঘটনা।
নিয়ম বদলের দাবি
পঞ্চম তথা নির্ণায়ক সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে অবশ্য মাথা ঠাণ্ডা হয় ডেনিসের। পরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, টয়লেট ব্রেকের নিয়মে পরিবর্তন আনা উচিত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের ম্যাচ খেলতে হয়। অন্য খেলোয়াড়দের কী হয় জানি না, আমার অন্তত প্রতি সেটের পর ওয়াশরুমে গেলে ভালো হয়। টয়লেট ব্রেকের এই বাধাধরা নিয়ম রাখা ঠিক নয়। কেউ তো ইচ্ছে করে ওয়াশরুমে যায় না, আমরা বাধ্য হই। ফলে প্রতি সেটের মাঝেই যদি ছোট ব্রেক দেওয়া হয় তাহলে সকলে চিন্তামুক্ত হয়ে কোর্টে নামতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications