প্রায় তিন দিন ধরে তৃণমূল বিধায়কের চালকলে তল্লাশি, খাবার-বিছানা গিয়েছে বাইরে থেকে
আয়কর দফতরের তল্লাশি অভিযান শুক্রবারও জারি রয়েছে। চালকলের সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। সেখানেই রয়েছেন চালকলের মালিক বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। অন্যান্য কর্মচারীরাও সেখান থেকে বের হতে পারেননি। ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে। কোন দুর্নীতিতে জড়িয়েছে এই চালকলের নাম? সেই প্রশ্ন উঠছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। বিধায়ক তন্ময় ঘোষকে ফাঁসানো হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলেছেন বাঁকুড়া জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। বিধায়কের কোনও। মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না কারণ, তিনি চালকলের ভিতরে। তার মোবাইল ফোনগুলিও বন্ধ রয়েছে।

জানা গিয়েছে, ধারাবাহিক জেরার সামনে পড়েছেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। বুধবার বেলা থেকে শুরু হয়েছে এই তল্লাশি অভিযান। তিনি কলকাতা থেকে বাঁকুড়া পৌঁছে যান। ফাইলপত্র হাতে নিয়ে তিনি চালকলে ঢুকেছিলেন। এরপরেই নির্দিষ্ট সময়ে তাকে জেরা করা হয়। একথা জানা যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন কর্মীকেও আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। এই কথা শোনা যাচ্ছে।
ওই বিধায়কের হিসাব রক্ষক হলেন অরূপ সামন্ত। তাকে ইতিমধ্যেই চালকলে তলব করেছেন আধিকারিকরা। দুই ব্যক্তিকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে চাল কলের ভিতর বিছানা বালিশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আয়কর দফতরের তদন্তকারীরা ভিতরে ঘুমানোর বন্দোবস্ত করছেন। এই আন্দাজ করা যায়। গত দুই দিন ধরে ওই চালকলে বাইরে থেকে খাবার আসছে।
মাঝেমধ্যে আধিকারিকরা বাইরে বেরোচ্ছেন। তবে কারোর কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে না। বিধায়কের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। বিধায়কের বাড়ি, অফিস, মদের দোকান, ওষুধের দোকানে আগেই তল্লাশি চালিয়েছে আয়কর দফতর। সেইসব অভিযান বুধবার সন্ধ্যার পরেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চলছে এই চালকলে।
তাহলে কি রেশন বন্টন দুর্নীতিতে এই চাল কল জড়িয়ে? রেশনের চাল কি এখানেও আসত? প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি বিধায়ককে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসানো হচ্ছে। তন্ময় ঘোষের বাবার আমলের ওই চালকল। সেখানে কোনঅরকম দুর্নীতি পাওয়া সম্ভব নয়। বিজেপি চক্রান্ত করছে বিধায়কের বিরুদ্ধে।












Click it and Unblock the Notifications