তৃণমূল বনাম তৃণমূল! পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ‘সরকারি প্রার্থী’ গোহারা, বোর্ড গঠন স্থগিত
তৃণমূল বনাম তৃণমূল! পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ‘সরকারি প্রার্থী’ গোহারা, ব্যবস্থা ফিরহাদের
১০৮ পুরসভার মধ্যে ১০৩ পুরসভায় বিপুল জয় পেয়েও কোন্দলমুক্ত নয় তৃণমূল। বিজেপি তথা বিরোধীদের ভোটে নাস্তানাবুদ করলেও চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে দলের বিক্ষুব্ধদের কাছে গোহারা হারছেন তৃণমূলের প্রস্তাবিত প্রার্থীরা। পূর্ব বর্ধমানের কালনা পুরসভায় তৃণমূলের প্রস্তাবিত প্রার্থী গোহারা হারলেন দলেরই বিক্ষুব্ধ প্রার্থীর কাছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে শেষে হস্তক্ষেপ করতে হল ফিরহাদ হাকিমকে। জেলা শাসকের নির্দেশের পর এদিন বাতিল হয়ে যায় বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে আশঙ্কা করেই এদিন বোর্ড গঠন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মহকুমা শাসককে।

পূর্ব বর্ধমানের কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান দলের তরফ থেকেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো এদিন কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণের পর চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু তারই মাধে বাধল গোল। তৃণমূলের নির্ধারিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদর্শ করে সিংহভাগ কাউন্সিলর সরে দাঁড়ালেন। তারা দলের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যানকে না মেনে ওই পদে তপোন পোড়েলকে সমর্থন করে বসেন।
তৃণমূলের তরফে কালনা পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান করা হয় আনন্দ দত্তকে। আর ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় তপন পোড়েলকে। কিন্তু কাউন্সিলরা শপথ গ্রহণের ঠিক পরেই বেঁকে বসেন। দলের প্রস্তাবিত আনন্দ দত্তের পরিবর্তে তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান চেয়ে বসেন। তার সমর্থনেই বেশিরভা কাউন্সিলর আওয়াজ তোলেন।
ভোটাভুটি হলে দেখা যায়, দলের ১২ জন কাউন্সিলর তপন পোড়েলের সমর্থনে ভোট দিয়েছেন। আর তৃণমূল অফিসিয়াল চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনন্দ দত্ত পেয়েছেন মাত্র চারটি ভোট। তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান করার দাবিতে তৃণমূলের ১২ জন কাউন্সিলর সরব হন। দলের ঘোষিত চেয়ারম্যানকে নিয়ে আপত্তি জানান তাঁরা। ওই চেয়ারম্যানকে মানবেন না বলেও জানিয়ে দেন।
তৃণমূলের ওই ১২ জন কাউন্সিলর চেয়ারম্যান হিসেবে চান তপন পোড়েলকে। আবার আনন্দ দত্তের সমর্থনে একদল বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ফলে তৃণমূলের দুই পক্ষ সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়। শেষমেশ পুলিশকে নির্দেশ দিতে হয় বিক্ষোভ দমনের জন্য। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, দলের প্রস্তাবিত প্রার্থীকেই মেনে নিতে হবে চেয়ারম্যান পদে। অন্যথায় দল বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, সব ঠিকঠাক ছিল, পিছন থেকে কিছু কাউন্সিলর ছুরি মেরেছে।
শুধু পূর্ব বর্ধমানের কালনা নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়ারেও তৃণমূল বনাম তৃণমূল লড়াই হয়েছে। সেই লড়াইয়ে আবার বিজেপির অন্তর্ভুক্তিও তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির সমর্থনে জিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়ার পুরসভায় চেয়ারম্যান হয়েছেন তৃণমূলের কাউন্সিলর অদ্যুৎ মণ্ডল। বিজেপির দুই কাউন্সিলরের সমর্থনে তৃণমূলের অদ্যুৎ মণ্ডল চেয়ারম্যান হন।
এই দুই পুরসভায় দলের নির্ধারিত চেয়ারম্যানকেই মেনে নিতে হবে। পূর্ব বর্ধমানের কালনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়ারে যে ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে তৃণমূল অনাস্থা আনবে। যারা দলের প্রস্তাবিত প্রার্থীর বিরু্দ্ধে যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।












Click it and Unblock the Notifications