বাবুলকে ছাপিয়ে ইতিহাস গড়লেন শত্রুঘ্ন, আসানসোলে তৃণমূলের আসান জয়ে খামোশ বিজেপি
আসানসোলে কখনও জেতেনি তৃণমূল। ’৫৭ সাল থেকে মাত্র চারবার কংগ্রেস জিতেছিল আসানসোলে একবার সোশ্যালিস্ট পার্টি জয়ী হয়েছিল, বাকি ১০ বার আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট।
আসানসোলে কখনও জেতেনি তৃণমূল। '৫৭ সাল থেকে মাত্র চারবার কংগ্রেস জিতেছিল আসানসোলে একবার সোশ্যালিস্ট পার্টি জয়ী হয়েছিল, বাকি ১০ বার আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। অর্থাৎ আসানসোল লাল-দুর্গ হয়ে উঠেছিল। প্রথম পরিবর্তন আসে বাবুল সুপ্রিয়র হাত ধরে ২০১৪ সালে। এই প্রথম সেখানে লাল-গেরুয়াদের আধিপত্য খর্ব করে জয়ী হল তৃণমূল।

আর আসানসোলে তৃণমূলের হয়ে ইতিহাস গড়লেন শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি আসানসোলে বিজেপিকে খামোশ করে আসান জয় ছিনিয়ে নিলেন। তিন লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হলেন শত্রুঘ্ন। সাতটির মধ্যে ছটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপিরে পর্যুদস্ত হতে হল। এমনকী বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের নিজের কেন্দ্রেও হারতে হল এবার। আর কুলটিতে বিজেপি জিতল মাত্র ৪৬৬ ভোটে, যেখানে বিজেপি ২০২১-এর ভোটে জয়ী হয়েছিল ৫০ হাজার ভোটে।
শত্রুঘ্ন সিনহা এদিন তিন লক্ষাধিক ভোটে জিতে প্রশ্ন তুললেন এতদিন এখানে কেন জিততে পারেনি তৃণমূলয। আসানসোলে বিজেপিকে 'খামোশ' করে দিয়ে শত্রুঘ্ন বললেন আগেই আসানসোল মমতার হওয়া উচিত ছিল। ভাবনা ঠিক ছিল, জয়ের রাস্তা ঠিক ছিল না। এবার আমরা জয়ের রাস্তা খুঁজে পেয়েছি। আর আমাদের জয়ও আসান বা সহজ হয়েছে।
এই আসানসোল বরাবর বামেদের ঘাঁটি ছিল। ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। তারপর ১৯৬৭-তে জয়ী হয়েছিল সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টি। ১৯৭১ ও ১৯৭৭ ফের সিপিএম জয়ী হয় আসানসোল থেকে। তারপর পর পর দুবার ১৯৮০ ও ১৯৮৪ সালে জয় হাসিল করে কংগ্রেস। কিন্তু ১৯৮৯ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত টানা আটবার আসানসোল কেন্দ্র থেকে জয়ী হয় সিপিএম। তখন থেকেই আসানসোলকে বলা হত লাল-দুর্গ। কিন্তু সেই লাল-দুর্গকে ভেঙে যায় ২০১৪ সালে। বাংলায় পরিবর্তনের প্রথমবার লালদুর্গের অবসান ঘটান বিজেপির বাবুল সুপ্রিয়। তারপর বাবুল সুপ্রিয় দু-দুবার জয়ী হন আসানসোল থেকে। এই প্রথম বাবুল-সৌজন্যে আসানসোল অধিকার তৃণমূলের।
শেষপর্যন্ত আসানসোলের গেরুয়ার-রাজের অবসান হল বাবুল সুপ্রিয় সরতেই। শত্রুঘ্ন সিনহাকে দিয়ে বাজিমাত করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসানসোলে শেষপর্যন্ত ফুটল ঘাসফুল। প্রশ্ন উঠতেই পারে, আসানসোলে তাহলে বিজেপি নয়, বাবুল তাঁর ক্যারিশ্মায় জিতেছিলেন পরপর দুবার। গতবার প্রায় দু-লক্ষ ভোটে হারিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মুমমুন সেনকে। বাবুল সরতেই দু-বছরের মধ্যেই ঘুরে গেল আসানসোলের ফল। প্রায় দু-লক্ষের ব্যবধান মুছে তিন লক্ষের বিরাট জয় হাসিল করলেন শত্রুঘ্ন সিনহা।
আসানসোলে যে পরিবর্তন হয়নি, তা নয়। পুরসভা বা বিধানসভায় তৃণমূল এর আগে কর্তৃত্ব দেখিয়ছে। কিন্তু লোকসভা ভোটে কখনও জিততে পারেনি তৃণমূল। সেই অধরা জয় এল অবশেষে। তার জন্য বাবুল সুপ্রিৃয়, শত্রুঘ্ন সিনহার কৃতিত্ব রয়েইছে। রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশ্মা এবং সর্বোপরি আসানসোলের আমজনতা, যাঁরা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন বিহারীবাবুকে। বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূল তুলতে সক্ষম হয়েছে সবুজ ঝড়।












Click it and Unblock the Notifications