Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Kali Puja 2024: কাঁকসার গহিন জঙ্গল, দীপান্বিতা অমাবস্যার পর দিন হয় বনকালীর পুজো

আগের মতো বন অত ঘন নেই৷ তবে আঁধার নামলে এখনও বুকের ভিতর ছ্যাঁত করে ওঠে। শাল - পিয়ালের জঙ্গল। পাতা ছড়ানো মাটির উপর চলাচলের কারণে একফালি পথ তৈরি। এখন সেই পথ অনেকটাই চওড়া। আর সেই পথেই গভীরে গেলে কালীর থান। কাঁকসার জঙ্গলের বনকালী।

কাঁকসার রাজকুসুম গ্রামের শাল পিয়ালের ঘন জঙ্গল। সেখানে আজও একই ভাবে জনপ্রিয় বনকালী। প্রতি বছরের মতো এবারও মহা ধুমধামে পুজোর আয়োজন হয়। আজ শুক্রবার পুজো শুরু হয় বেলা ১১টায়। শেষ হয় দুপুর ২টোয়। কয়েক শতক পেরিয়ে গিয়েছে এই পুজোর বয়স৷ আর এর সঙ্গে জড়িতে আছে একাধিক ঘটনাও।

kanksar kalipuja

প্রতি বছর কালীপুজোর পরের দিন জঙ্গলের মধ্যেই বনকালীর পুজো হয়। মহা ধুমধামে পুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। পুজোর সূচনা হয়েছিল আনুমানিক সাড়ে চারশো বছর আগে। রাজকুসুম গ্রামের রায় পরিবার এই পুজো শুরু করেছিল। এমন কথাই জানা গিয়েছে। তবে একটা সময়ের পর এই পুজোর এক বিশেষত্বও দেখা যায়। আর সেখান থেকেই এই পুজো আরও ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে।

আগে জঙ্গলের মধ্যেই মূর্তি এনে পুজোর আয়োজন হত। পুজোর পুরোহিত ছিলেন কাঁকসার গোপালপুরের ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্য। সেই সময় পুরোহিতকে রীতিমতো লাঠিয়াল সঙ্গে করে জঙ্গলে আনা হত। গোটা এলাকায় চাষ হত। ছিল না তেমন রাস্তা ঘাট। তাই ধানখেতের মাঠের আল দিয়ে লাঠিয়ালরা পাহারা দিতে পুরোহিতকে বনে নিয়ে যেতেন।

এক বছর প্রবল বৃষ্টি। মাঠের আল দিয়ে জঙ্গলে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল সকলকে। সেই বছর পুরোহিত স্বপ্নাদেশ পান। দেবী কালি তাকে তার বাড়িতেই পুজো করতে বলেন। প্রায় ১০০ বছর আগে দেবীর নির্দেশ মেনে কাঁকসার গোপালপুর গ্রামে ভট্টাচার্য পরিবারে শুরু হয় কালীর পুজো। যেহেতু জঙ্গলে বহু বছর ধরে পুজো হত। তাই পুরোহিত দেবীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, জঙ্গলে মূর্তি না থাকলে সেখানে সে কোথায় পুজো দেবে?

উত্তরে দেবী জানিয়ছিলেন, জঙ্গলের মধ্যে একটি গাছের গায়ে দুটো চোখের আকৃতি দেখা যাবে। সেই গাছেই তিনি বিরাজমান থাকবেন। সেই গাছের গোঁড়ায় মূর্তি ছাড়াই হবে পুজো। ভক্তরা নিজেই আসবে পুজো দিতে। সেই রকম গাছ পরে পাওয়া যায়। তারপর থেকে সেই রীতি মেনেই কালী পুজোর পরের দিন ওই পুজো হয়। রাজকুসুম গ্রামে জঙ্গলের মধ্যে আজও এক ভাবে চলে বন কালীর পুজো।

স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও বনকালীর থানে পুজো দিতে প্রচুর মানুষ যান। জেলা ছাড়িয়ে ভিন জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান প্রতি বছর। জঙ্গলের মধ্যে পুজোর আয়োজন হলেও আজও থাকে না কোনও মূর্তি। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দেবীর উপস্থিতি পুজো থানের চারিদিকে লক্ষ করা যায়। প্রতিটি গাছের গায়ে চোখের আকৃতি দেখা যায়।

মানুষ সেখানে যান তাদের মনষ্কামনা নিয়ে। অনেকেই যান পরিবারের সকলের সুখ শান্তি কামনা করতে। আবার অনেকে যান তাদের মনস্কামনা পূরণ হলে পুজো দিতে। পুজোর জন্য কাউকে নিমন্ত্রণ করা হয় না। মানুষ প্রতি বছর নিজেই দেবীর মাহাত্মর কথা শুনে ভিড় করেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+