সারা রাত গাছ আঁকড়ে প্রাণরক্ষা মুক্তারের, চোখের সামনে তিস্তা নিয়ে গেল তিন সন্তানকে
মাঝেমধ্যেই ভয়ে কেঁপে উঠছেন। ডুকরে উঠছেন নিজের ঘোরেই। কান্নাকে ছাপিয়ে ভয় চোখেমুখে। চোখের সামনে যে সন্তানদের ভেসে যেতে দেখেছেন। কাউকেই ধরে রাখতে পারেননি। নিজের জীবন বেঁচে গিয়েছে বরাত জোড়ে। রাক্ষুসে তিস্তা ছেলেমেয়েদের নিয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়ির বাসিন্দা মহম্মদ মুক্তার কেঁদেই চলেছেন। গাছের ডালে সারা রাত ঝুলেছিলেন ওই ব্যক্তি। নীচে বইছিল রাক্ষুসে তিস্তা।
সিকিমের ভয়াবহ বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষর জীবন। কিন্তু যারা কোনওক্রমে বেঁচে ফিরেছেন তাদের চোখে প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি। বাকরুদ্ধ সেইসব মানুষরা। জীবনমৃত অবস্থা তাদের। সিকিমের বিপর্যয়ের দিনের ঘটনা সমাজ মাধ্যমে ঘোরাঘুরি করেছে। পাশাপাশি কীভাবে মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়েছে, সেই ছবিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তেমনই জীবন কোনওমতে রক্ষা পাওয়া চরিত্রের নাম মহম্মদ মুক্তার।

এক ব্যক্তি গাছের মগডালে। গাছকে জড়িয়ে ধরে প্রাণপণ বাঁচার লড়াই চালিয়েছেন। সেই ছবিও ভাইরাল হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি শিলিগুড়ির বাসিন্দা। তিনি বেঁচে গিয়েছেন। কিন্তু তার চোখের সামনে তিস্তার করাল গ্রাসে হারিয়ে গিয়েছে তিন সন্তান। বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি সন্তানদের।
মৃত অবস্থায় এক ছেলে উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ তাঁর দুই মেয়ে। চোখের সামনে সন্তানকে ভেসে যেতে দেখে বাকরুদ্ধ মহম্মদ মুক্তার। তিনি শিলিগুড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহারাজা কলোনির বাসিন্দা মহম্মদ মুক্তার। কাজের জন্য সিকিমের রংপোতে ৩ সন্তানকে নিয়ে থাকতেন মহম্মদ মুক্তার।
স্ত্রী কোলের সন্তানকে নিয়ে কয়েকদিন আগেই বিহারে চলে গিয়েছেন। সেখানেই থাকেন স্ত্রী। ঘটনার রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন মুক্তার। স্থানীয়দের আওয়াজে ঘুম ভাঙে। চোখ খুলে দেখতে পান ঘরে প্রবল বেগে জল ঢুকে পড়েছে। দরজা খুলতেই গোটা ঘর জলে ডুবে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাননি। নিমেষেই তিস্তার গ্রাসে চলে যায় তাঁর বাড়ি। চোখের সামনে ভেসে যায় দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
কোনওমতে একটি গাছের উপরে উঠে বাঁচেন মহম্মদ মুক্তার। আপ্রাণ চেষ্টা করেন সন্তানদের বাঁচাতে। কিন্তু তিস্তার ভয়ঙ্কর স্রোতের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। রাতভর বৃষ্টিতে গাছের মধ্যেই জড়িয়ে নির্বাক হয়েছিলেন তিনি। সকালে তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে উদ্ধার হয় ছেলের দেহ। শিলিগুড়িতে পৌঁছে বৃহস্পতিবার ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।
এদিকে বাড়িতে ফিরেও ভয়াবহ ওই রাত তাকে তাড়া করছে। আতঙ্কে শিউরে উঠছেন তিনি। সন্তান হারানোর বেদনায় ছটফট করছেন। অন্য দুই সন্তান কি আর ফিরবে? না কি তিস্তা তাদের নিয়ে গিয়েছে?












Click it and Unblock the Notifications