'কাটমানি' দেয়নি বলে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পায়নি পরিবার? কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যতম পছন্দের প্রকল্প রূপশ্রী। মেয়ের বিয়ের জন্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায় এই প্রকল্পে। ভোটের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জায়গায় রূপশ্রী সম্পর্কে প্রচারও করেছেন। তবে সেই উপস্থিতির ক্ষেত্রেও কাটমানি দিতে হবে? না হলে পরিবার টাকা পাবে না? এমনই অভিযোগ উঠল মালদহে।
বিয়ের অতিক্রান্ত সাত মাস। কিন্তু 'কাটমানি' দিতে না পারায় মেলেনি রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা। ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই বধূ। মালদহের চাঁচল ২ নং ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলতলা এলাকার ঘটনা। ওই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে আজিনা খাতুনের বিবাহ হয় গত বছর ডিসেম্বর মাসে।

আনোয়ার দৃষ্টিশক্তিহীন। দিন আনা দিন খাওয়া ওই পরিবার। পরিবার ভেবেছিল, রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পেলে মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য অনেক সুবিধা হবে। সেজন্য আবেদনও করা হয় পরিবারের থেকে। বিয়ের দিন বাড়িতে এসেছিলেন সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকেরা।
অভিযোগ, যারা এসেছিলেন তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু দরিদ্র আনোয়ারের সেই টাকা দেওয়ার ক্ষমতা হয়নি। তাই বিয়ের সাত মাস হলেও তার মেয়ে রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এও শোনা গিয়েছে, ওই প্রকল্পের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়ে চাঁচল ২ ব্লকের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন মেয়ে ও বাবা। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
কেবল চাঁচল নয়। রাজ্যজুড়েই এই সব প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি চলছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে কেবল রাজ্য সরকার জড়িত নয়। প্রশাসনের অনেক কর্মী আধিকারিক যুক্ত রয়েছেন। কাটমানি না দিলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকল্প থেকে। দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, ওই আবেদন রিজেক্ট হয়েছে বলে শোনা গিয়েছে। কী কারণ, এখনও পরিষ্কার নয়৷ তিনি চাইছেন, গ্রামের প্রতিটি দরিদ্র পরিবার রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির সুবিধা পায়।












Click it and Unblock the Notifications