‘কেউ দানবিক, পাশবিক হলে আমরা কি করে মানবিক হব?’, আরজি কর রায় নিয়ে ফের অসন্তোষ মুখ্যমন্ত্রীর
মালদার ইংরেজবাজারে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠ্যানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সভামঞ্চ থেকে একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন তিনি। সাধারণদের দিলেন বেশ কিছু সুবিধা। আর এই সভামঞ্চ থেকেই মালদার নিহত তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি অনুষ্ঠানেই নিহত তৃণমূল কর্মী দুলাল সরকারকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সাথে দুলাল সরকারের স্ত্রী চৈতালি সরকারের কাঁধেও তুলে দেন গুরু দায়িত্ব।
এদিন সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমার সহকর্মী ছিলেন দুলাল সরকার। বাবলার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবে চৈতালি। তবে সমাজে মাফিয়ার কোনও জায়গা নেই। সেই রকম পরিস্থিতি দেখলে তার তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে"।

অন্যদিকে, গতকালের আরজি কর মামলা নিয়ে এদিন ফের একবার সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও বলেছিলেন, "যে এই রায় মানা যায় না। আরজি কর মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডর বদলে ফাঁসির প্রয়োজন ছিল। রাজ্য ফের উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরোধিতা করে আবেদন করবে"।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই আজ হাইকোর্টে শিয়ালদাহ কোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে মামলার আবেদন করা হয়েছে। এদিন মালদার সভা থেকেও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "আরজি করে বলেছিলাম ফাঁসি চাই। কী করে বলে এটা 'Rarest of the Rare Case' নয়। আমি এই রায় মানতে পারিনি। আমি মনে করি এই ঘটনা বিরল, স্পর্শকাতর এবং জঘন্য অপরাধ। এর জন্যে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রয়োজন ছিল।
অপরাধ করে বেঁচে গেলে এরা আরও অপরাধ করবে। আমি চেয়েছিলাম, এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হোক। যাবজ্জীবন কেসে প্যারোলেও বেরিয়ে যায়। আইনজীবী ছিলাম, আইন নিয়ে পড়েছি, আইনটা বুঝি। এই ধরনের ঘটনার জন্যেই আমরা অপরাজিতা বিলে সর্বোচ্চ সাজা রেখেছি। কিন্তু কেন্দ্র বিল এখনও পাশ হতে দেয়নি, আটকে রেখেছে। যাবজ্জীবনে ২-৩ বছরেই জেল থেকে বেরিয়ে যাওয়া যায়। কেউ দানবিক, পাশবিক হলে আমরা কি করে মানবিক হব?"
এদিন মালদার সভা থেকে শুধুমাত্র আরজি কর প্রসঙ্গ নয়, আরও অন্যান্য বিষয় নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের অশান্তি, ওবিসি-র চাকরি সহ আরও অনেক বিষয়েই এদিন নিজের মত পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সীমান্তের দায়িত্ব বিএসএফের, ওরা ওই দিকটা দেখে নেবে।
ওপার বাংলায় অশান্তি চলছে। যদি ওই দিক থেকে বাংলার মানুষজন কেউ ফিরে আসতে চান, তাহলে ওঁদেরকে বাংলায় ফিরিয়ে নেবেন। তারপর যা পদক্ষেপ আছে প্রশাসন দেখবে"। একই সাথে এও বলেন, "বিহার, ঝাড়খণ্ড, বাংলাদেশের বর্ডার জুড়ে রয়েছে মালদা"। মালদার প্রশাসনকে জোরাল বার্তা এবং সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, ওবিসির চাকরি প্রসঙ্গে বলেন, "কোর্টের জন্যে চাকরি দিতে পাচ্ছি না, ওবিসি-দের চাকরি আটকে আছে। সুপ্রিম কোর্টে গেছি এর জন্যে। আলাদা করে ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ করেছি, যাতে সাধারণের আসনে হাত দিতে না হই সেই জন্যে"।
এরপরই খানিকটা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "আমি আপনাদের পাহারাদার, ভোট চাইতে আসিনি, এমনিই মানুষের কাজ করতে এসেছি। মানুষের সেবা করছি"।












Click it and Unblock the Notifications