By Election of West Bengal: কংগ্রেস-সিপিএমের যৌথসভা ধূপগুড়িতে, জোট ধোঁয়াশা কি কাটবে অধীর-সেলিমে
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। এবার ধূপগুড়ি উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিএম প্রার্থীর সমর্থনে যৌথ প্রচারে নামছে কংগ্রেস। জোট ধোঁয়াশা কাটিয়ে অধীর চৌধুরী ও মহম্মদ সেলিম এক মঞ্চে থেকে কংগ্রেস ও সিপিএমের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচার করবেন।
ধূপগুড়িতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ১ সেপ্টেম্বর সভা করবেন বলে জানা গিয়েছে। বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুতে এই কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। পঞ্চায়েত ভোট মিটতে না মিটতেই এই কেন্দ্রে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিজেপি বনাম তৃণমূলের লড়াই শুধু নয়, কংগ্রেস ও সিপিএম যৌথভাবে এই কেন্দ্রে লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। ফলে ত্রিমুখী লড়াই এবার আসন্ন। বিজেপি এই কেন্দ্রে ২০২১-এ জয়ী হলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল আশাবাদী। আবার প্রধান বিরোধী হিসেবে প্রমাণ করাই শুধু নয় কংগ্রেস-সিপিএম এবার জয়ের জন্য ঝাঁপাতে চাইছে।
সম্প্রতি অধীর চৌধুরী দেশের স্বার্থে ইন্ডিয়া জোটের হয়ে কথা বলেছিলেন। সেখানে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমও রয়েছে। কিন্তু বাংলায় সিপিএম ও কংগ্রেস তৃণমূলকে সমর্থন দেবে না। কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং সিপিএম নেতৃত্বও বারেবারে এ কথা জানিয়েছে। তারই মধ্যে অধীরের নদী ও পুকুর তত্ত্বে জোট নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে ধূপগুড়িতে কংগ্রেস ও সিপিএম ভোট প্রচারে নামছে একাধারে তৃণমূল ও অন্যধারে বিজেপির বিরুদ্ধে। হাইকম্যান্ডের চাপে অধীর চৌধুরী বেঁকে বসতে পারেন বলে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, তার নিরসন তিনি নিজেই ঘটিয়ে দিয়েছেন। নিজেই জানিয়েছেন সিপিএমের সঙ্গে যৌথ প্রচারের বিষয়টি।
কংগ্রেস ও সিপিএম উভয়েই মনে করছে ধূপগুড়ির সভায় ধোঁয়াশা কেটে যাবে কর্মীদের মধ্যে। তাঁরা তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই দিতে প্রস্তুত। এর আগে সাগরদিঘিতে কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের সমর্থনে ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এবার তার পাল্টা ধূপগুড়ির সিপিএম প্রার্থীর সমর্থনে ভোট প্রচারে যাচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। ফলে কংগ্রেসকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে। ভোটারদের কাছেও সেই বার্তা দিতে হবে। কংগ্রেস ও সিপিএম যে একজোট হয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মোকাবিলায় শামিল এই বাংলায় তা বুঝিয়ে দেওয়াই অধীর ও সেলিমের গুরুদায়িত্ব।
ধূপগুড়ির নির্বাচনের ফল এবার কোনদিকে যায় তা যেমন দেখার, তেমনই কংগ্রেস ও সিপিএম এখান কতটা সুবিধা করতে পারে, তাও দেখার। ২০২৪ সালের আগে এই নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচন উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে সমস্ত দলের কাছেই একটা পরীক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications