তৃণমূলে যোগ দিয়েও পতাকা নিলেন না বিজেপি বিধায়ক! দলবদলে চড়ছে জল্পনার পারদ
তৃণমূলের কোনও উত্তরীয় ছিল না দলত্যাগী বিধায়কের গলায়। এমনকী তিনি স্টেশন থেকে জেলা কার্যালয় পর্যন্ত কোনো দলীয় পতাকা ছাড়াই আসেন।
তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। কিন্তু তিনি তৃণমূলের পতাকা তুলে নিলেন না। কেন দলবদলে হঠাৎ এমন কৌশল নেওয়া হল। বিজেপি বিধায়ক ও তৃণমূল নেতৃত্বের এই অভিষন্ধির কারণ খোঁজা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে! ফলে সুমন কাঞ্জিলালের দলবদলের পরও চড়ছে জল্পনার পারদ।

রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ তিনি পদাতিক এক্সপ্রেসে নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে নামেন। বিজেপি ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালকে স্বাগত জানাতে কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী উপস্থিত ছিলেন স্টেশন চত্বরে।
সুমন কাঞ্জিলাল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, তাই এই সিদ্ধান্ত। এরপর তিনি সটান চলে যান আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল জেলা কার্যালয়ে। সেখানে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বিজেপি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। দল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিরোধী বিধায়ক হিসেবে দু'বছর কোনো কাজই করতে পারিনি।
তাঁর কথায়, আমাদের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও বিজেপি এই কাজে ব্যর্থ। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প হ্যালো সাংসদের মাধ্যমে বিধায়কের হাত দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করা যায়। কিন্তু তা বারবার চেয়েও পাওয়া যায়নি। অপরদিকে গ্রামেগঞ্জে গেলে লোকের মুখে শুনতে হচ্ছে রাজের শাসক দলকে শায়েস্তা করতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে দিয়েছে কেন্দ্রের সরকার। একজন জন প্রতিনিধি হিসাবে এই ধরনের রাজনীতি আমি কোনোভাবেই মেনে মেনে নিতে পারিনি।
এছাড়া বিজেপি ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্যের দাবিকে তুলে ধরেন। সুমন কাঞ্জিলাল জানান, আজ অবধি বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্র নেতৃত্ব এক মঞ্চে এসে কোনোদিনই তা সরাসরি বলেননি। অথচ স্থানীয় কিছু সংসদ এবং বিধায়ক মানুষের ভাবাবেগকে নিয়ে হাওয়া গরম করার চেষ্টা করছে। আমি বলব বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রের নেতৃত্ব একসাথে এসে বসে এর একটা সুস্পষ্ট জবাব দিক।
তবে এদিন দলবদল নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্ন সরাসরি এড়িয়ে যান সুমন কাঞ্জিলাল। এমনকি বিধানসভায় শাসক আসনে তিনি বসবেন, না কি বিরোধী আসনে বসবেন তা নিয়েও কোন সুস্পষ্ট জবাব তিনি দেননি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনেও তাঁর গলায় তৃণমূলের কোনও উত্তরীয় ছিল না। এমনকী তিনি স্টেশন থেকে জেলা কার্যালয়ে পর্যন্ত কোনো দলীয় পতাকা ছাড়াই আসেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দিলেও কোনও পতাকা হাতে ধরাননি। ফলে তৃণমূলের প্রতীক বা কোনও পতাকা হাতে না নিয়ে তিনি যে অন্য খেলা খেলতে চাইছেন তা স্পষ্ট। আসলে তিনি বিজেপি বিধায়ক হিসেবে কাজ করে যেতে চাইছেন, আর বাইরে তৃণমূলের হাত শক্ত করতে চাইছেন। অর্থাৎ দুমুৎী ভূমিকা পালন করে যেতেই এই পন্থা নিয়েছেন সুমন কাঞ্জিলাল।
অথচ তিনি মুখে বলছেন, অন্যান্য সাংসদ এবং বিধায়কদের উচিত রাজ্যে মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে আরো শক্ত করে তোলা। অথচ তা না করে নিজেদের কাজের ব্যর্থতা ঢাকতে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপির সাংসদ এবং বিধায়কেরা, এই বলে তিনি অভিযোগের তির ছোড়েন।












Click it and Unblock the Notifications