অধিকাংশ বেসরকারি কর্মীই জীবিকা নিয়ে খুশি নয়, বলছে সমীক্ষা

আবাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যম, পরিবহণ, ব্যাঙ্কিং, পরিষেবা, উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ১৩,২০৫ জনকে নিয়ে সারা দেশে ওই সমীক্ষা চালিয়েছিল আইআইএম আমেদাবাদ। দেখা যাচ্ছে, এদের একটা বড় অংশ নিজেদের জীবিকা নিয়ে খুশি নয়। জীবিকা সন্তুষ্টি বা 'জব স্যাটিসফ্যাকশন' শব্দটা এরা স্বপ্ন বলে মনে করে। কেউ বলেছে, কোম্পানিতে অনেক সময় ব্যয় করে। কাকভোরে বেরিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। সেই তুলনায় যা বেতন পাওয়া যায়, তা যথেষ্ট নয়। কেউ মনে করে, ওপরওয়ালার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় যখন-তখন চাকরি চলে যেতে পারে। এই ভয়ে অফিসে, বাড়িতে কাঁটা হয়ে থাকে। পুরুষ সহকর্মীদের কেউ কেউ আবার ভাবে, বস মেয়েদের প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি। এটা ভেবে অবসাদে ভোগে। 'অফিস পলিটিক্স' নিয়েও ঘোর চিন্তায় থাকেন কেউ কেউ।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, তরুণ কর্মীরা বেশি ক্ষুব্ধ। ৩০ বছরের কম বয়স, এমন ৩৯.৬০ শতাংশ কর্মী নিজেদের কাজে সন্তুষ্ট। ৩০-৪০ বছর বয়সী কর্মী যারা জীবিকা নিয়ে সন্তুষ্ট, তাদের হার হল ৪৬.৬৭ শতাংশ। আর ৫০ বছরের ওপরে বয়স, এমন সন্তুষ্ট কর্মচারীদের হার ৫৩.১৭ শতাংশ। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, অল্পবয়সীরা তারুণ্যে ভরপুর হওয়ায় সহজে চাকরি পরিবর্তন করতে পারে। তাই অল্পেতে তারা সন্তুষ্ট থাকছে না। কাজ নিয়ে ক্ষোভ বাড়লে 'দূর মশাই, রইল আপনার চাকরি' গোছের বার্তা দিয়ে চলে যেতে পারে। কিন্তু, বয়সকালে স্থবিরতা এসে যাওয়ায় মানিয়ে নিতে হয়।
সমীক্ষাটিতে দেখানো হয়েছে, ২০০৯ সালে মাত্র ৩২ শতাংশ বেসরকারি কর্মী মনে করত, কোম্পানি তাদের কথা ভাবে, বিপদে-আপদে পাশে আছে। ২০১৩ সালে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। ২০০৯ সালে ৪১ শতাংশ তাদের চাকরির শর্তাবলী নিয়ে খুশি ছিল। ২০১৩ সালে সেটা কমে হয়েছে ৩৪ শতাংশ। আর ২০১৩ সালে অন্তত ৫৮ শতাংশ কর্মীর মনে হয়েছে, তাদের চাকরি কিছুদিন পর থাকবে না।
কর্মীদের অসন্তুষ্টি নিশ্চিতভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। আইআইএম আমেদাবাদ তাই শিল্পমহলকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications