কুস্তিগীর ভিনেশ-সঙ্গীতার ছবি বিকৃত! প্রযুক্তির উন্নতিতে আসল-নকলের ফারাক ধরা ক্রমেই কঠিন
কুস্তিগীরদের গম্ভীর মুখের ছবি বদলে গেল সহাস্য ছবিতে! আর তা নিয়েই তোলপাড় বিশ্ব। দিল্লিতে প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের মিছিল আটকে তাঁদের গাড়িতে তুলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। ভিনেশ ও সঙ্গীতা ফোগাটের ছবি নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।
বজরং পুনিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন তাঁদের প্রতিবাদ-আন্দোলনকে লঘু করে দেখাতেই ভিনেশ ও সঙ্গীতার হাসিমুখের ছবি ভাইরাল করা হয়েছে আইটি সেলের তরফে। পাশাপাশি দুটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন বজরং। একটি আসল, অপরটি বিকৃত।

ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে নাবালিকা-সহ মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে প্রতিবাদ-আন্দোলনে নেমেছেন কুস্তিগীররা। ২৮ মে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের দিন তার কাছে গিয়ে মহিলা সম্মান মহাপঞ্চায়েত কর্মসূচি নেন কুস্তিগীররা। যদিও সেখানে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের পথ আটকায় পুলিশ।
যে বাসে কুস্তুগীরদের তোলা হয়েছিল তার মধ্যের এক ছবি নিয়েই তুঙ্গে বিতর্ক। বজরং যে বিকৃত ছবিটি নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছেন, তাতে দেখা গিয়েছে আটক হওয়া অন্যান্য কুস্তিগীর ও পুলিশকর্মীরা বাসের পিছনে বসে। সঙ্গীতা ও ভিনেশ হাসিমুখে। বজরং প্রমাণ দিয়ে দেখান আসল ছবিটি বিকৃত করা হয়েছে।
এই ছবি শেয়ার নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলছে। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ, ২৮ মে বেলা ১২টা ৩১ মিনিট নাগাদ ভিনেশ ও সঙ্গীতা থমথমে মুখে বসে সেই ছবিটি পোস্ট করা হয়। তার দেড় ঘণ্টা পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয় হাসিমুখের ছবি। ফেসঅ্যাপ সফটওয়্যার ব্যবহার করেই ছবিটি বিকৃত করা হয়েছে।

বিবিসিকে সঙ্গীতা জানিয়েছেন, তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন না পুলিশ কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। ভীতও ছিলেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে আর কাদের আটক করা হয়েছে তা বোঝাতেই ওই ছবি তুলেছিলেন। এক বিশেষজ্ঞের কথায়, খুব তীক্ষ্ণ নজর দিয়ে দেখলেই দুটি ছবির ফারাক বোঝা যাবে। নচেৎ নয়। ছবি বিকৃত করা হয়েছে সুকৌশলে, কিন্তু তা উদ্বেগজনকও।
IT Cell वाले ये झूठी तस्वीर फैला रहे हैं। हम ये साफ़ कर देते हैं की जो भी ये फ़र्ज़ी तस्वीर पोस्ट करेगा उसके ख़िलाफ़ शिकायत दर्ज की जाएगी। #WrestlersProtest pic.twitter.com/a0MngT1kUa
— Bajrang Punia 🇮🇳 (@BajrangPunia) May 28, 2023
বিকৃত ছবিটিতে যাঁদের মুখ দেখা যাচ্ছে তাঁদের সকলেরই চকচকে দাঁত এবং হাসির ধরন একইরকম। এতেই প্রথমে বোঝা যাচ্ছে ছবিটি বিকৃত। গালে টোল পড়েছে, এটা দেখেও ছবির বিকৃতি স্পষ্ট। কেন না, সঙ্গীতা ও ভিনেশের দাঁতের রংয়ের সঙ্গে বিকৃত ছবির দাঁতের রংয়ের মিল নেই। তাঁদের গালে টোলও পড়ে না।

তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে মূল ছবি ও বিকৃত ছবির ফারাক নির্ণয়ও আজকাল কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটিতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে গবেষণারত ড. সোফি নাইটিঙ্গেলের কথায়, এখন উন্নত ধরনের এডিটে কোনও সূত্র চিহ্নিত ফারাক বোঝার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ফ্যাক্টচেকার পঙ্কজ জৈন জানিয়েছেন, এখনও অবধি বিকৃত কিছু চিহ্নিত করা যাচ্ছে। একজন সাধারণ মানুষও তা পারবেন। কিন্তু দিন যত এগোচ্ছে তত আসল ও বিকৃত বিষয়ের ফারাক বোঝা কঠিনও হয়ে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications