‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’, জীবনের শেষ দৌড়ে চোখে জল এনে দিলেন বোল্ট
অনেক স্বপ্ন ছিল। জীবনের শেষ দৌড়ে একটা মাইলফলক রেখে যাবেন। সোনার হাসি হেসেই চিরাচরিত ভঙ্গিমায় তিনি শেষ করবেন জীবনের এই অধ্যায়ের। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হল না। ইতিহাসও থমকে গেল।
শেষ হল না বোল্টের জীবনের শেষ দৌড়। একটা মাইলস্টোনের পরিসমাপ্তী ঘটল চোখের জলে। উসেইন বোল্ট তাঁর জীবনের শেষ দৌড়ে নেমে কয়েক পা গিয়েই অসহ্য যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়লেন ট্র্যাকে। জীবন্ত কিংবদন্তি স্প্রিন্টারের শেষ লড়াইটা অসম্পূর্ণই রয়ে গেল। ইতিহাসের পাতায় তাঁর বিদায়ক্ষণ স্মরণীয় করে যেতে ব্যর্থ হলেন বোল্ট।

অনেক স্বপ্ন ছিল। জীবনের শেষ দৌড়ে একটা মাইলফলক রেখে যাবেন। সোনার হাসি হেসেই চিরাচরিত ভঙ্গিমায় তিনি শেষ করবেন জীবনের এই অধ্যায়ের। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হল না। ইতিহাসও থমকে গেল। অতিমানব হয়ে উঠতে পারলেন না উসেইন বোল্ট। যে ট্র্যাক তাঁকে জীবনের পরম প্রাপ্তীর স্বাদ দিয়েছিল এতদিন, এদিন সেই ট্রাকেই শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে দেখতে হল- তিনি থেমে গিয়েছেন। তাঁকে ফেলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা চলে গিয়েছে অনেক দূরে।
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ৪x১০০ মিটির রিলে দৌড়ে জামাইকার ব্যাটন হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। গত ন'বছরের মতো এবারও তিনি সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে দেশকে স্বর্ণপদক এনে দেবেন, এমনটাই আশা করেছিলেন স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকরা। কিন্তু ইতিহাস অন্য কিছুর প্রত্যয়ী ছিল। তা না হলে বোল্টের মতো কিংবদন্তি জীবনের শেষ ল্যাপে এসে চোট পাবেন কেন? আর কেনই বা তিনি কয়েক পা গিয়েই লুটিয়ে পড়বেন ট্র্যাকে!

বরাবরই শেষ ১০০ মিটারের ব্যাটন হাতে তুলে নিয়ে দেশকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। এবারও সেই প্রত্যাশায় শুরু করেছিলেন দৌড়। কিন্তু মাত্র ১৫ পা গিয়েই সব প্রত্যাশার পরিসমাপ্তী ঘটল। শুধু জামাইকার পদক জয়ের আশা শেষ হল না। কিংবদন্তির জীবনের শেষ দৌড়টা অসম্পূর্ণই রয়ে গেল। উল্লেখ্য এই ৪x১০০ মিটার রিলেতে স্বর্ণপদক পেল ব্রিটেন, দ্বিতীয় হয়ে রৌপ্য পদক জিতল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আরও উল্লেখ্য, এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আসরেই ১০০ মিটার দৌড়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছিলেন বোল্ট। ব্রোঞ্জ পদকেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল বিশ্বসেরা স্প্রিন্টারকে। বিশ্বের দ্রুততম মানব তবু হাল ছাড়েননি। ৪x১০০ মিটার রিলেতে জীবনের শেষ দৌড় উল্লেখযোগ্য করে রাখার স্বপ্ন নিয়েই ট্র্যাকে নেমেছিলেন। কিন্তু বিষাদপূর্ণ পরিসমাপ্তী ঘটল তাঁর জীবনের একটা অধ্যায়ের।
বোল্টের বাঁ-পায়ের পেশিতে টান ধরার কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মতো চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলিটের এহেন পরিসমাপ্তী কেউ-ই মানতে পারছেন না। জনসন লুইস থেকে শুরু করে জুহান ব্লেক- সবাই বলছেন এই পরিণতি মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কষ্টকর। আসলে গত বছর অলিম্পিকের আগে থেকেই চোট ভোগাচ্ছিল তাঁকে। তা নিয়েই রিও অলিম্পিকে তিনটি সোনা জিতেছিলেন। এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও এমনই কিছু চমক দিয়ে শেষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাধ অপূর্ণ রেখেই সরে যেতে হল তাঁকে। শেষ হল বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ১১টি সোনা ও আটটি অলিম্পিক সোনার অধিকারীর দৌড়।












Click it and Unblock the Notifications