Tokyo Paralympics : ফুটবলার হতে চাওয়া মনীশ শুটিংয়ে নেমেছিলেন জেদের বশেই, বাকিটা ইতিহাস
Tokyo Paralympics : ফুটবলার হতে চাওয়া মনীশ শুটিংয়ে নেমেছিলেন বাধ্য হয়ে, বাকিটা ইতিহাস
শৈশব থেকে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মনীশ নারওয়াল। নীল জার্সি গায়ে মাঠে নেমে গোল করে দেশকে গর্বিত করাই ছিল তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় সে স্বপ্ন ধূসর হয়ে যায় ক্রমশ। তবু হাল ছাড়েননি মনীশ। ফুটবলে না হলেও প্যারালিম্পিক থেকে দেশকে সোনা এনে দিয়ে নিজের হাতেই নতুন ইতিহাস লিখলেন হরিয়ানার প্যারা শুটার। তাঁর কীর্তিতে মুগ্ধ হয়েছে দেশ। উৎসবে মেতেছেন মনীশের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা।

মনীশের সোনা
টোকিও প্যারালিম্পিক থেকে তৃতীয় সোনা জিতে ইতিহাস রচনা করল ভারত। এবার পি ফোর মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টে প্রথম হলেন মনীশ নারওয়াল। ২১৮.২ পয়েন্ট হাসিল করে নতুন প্যারালিম্পিক রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। পি ফোর মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টের ফাইনালের প্রথম দশ শট শেষে বেশ খানিকটা পিছিয়ে ছিলেন প্যারা শুটিং বিশ্বকাপে সোনা জিতে ইতিহাস রচনা করা মনীশ নারওয়াল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে উত্থান ঘটতে থাকে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এসএইচ ওয়ানের বিশ্ব তালিকার চতুর্থ স্থানে অবস্থান করা ১৯ বছরের প্যারা শুটার। মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক মনীশ প্যারালিম্পিকের চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ের শেষ দুই সিরিজ থেকে ১০.৮ ও ১০.৫ পয়েন্ট হাসিল করে সোনা জিততে সক্ষম হন। একই ইভেন্ট থেকে রুরো জিতেছেন ভারতের সিংহরাজ আধানা।

কৃতীদের প্রতিক্রিয়া
প্রথম বার প্যারালিম্পিকে খেলতে নেমেই দেশকে সোনা দিতে পেরে আপ্লুত এবং গর্বিত হয়েছেন মনীশ নারওয়াল। এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য নিজের পরিবার, কোচ ও ভারতের প্রতি নাগরিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন টোকিও প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী শুটার। প্রতিযোগিতা থেকে দুটি পদক জেতা সিংহরাজ আধানাও এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেশের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, মনীশ নারওয়ালের হাত ধরে চলতি প্যারালিম্পিকের মেডেল সেরেমনিতে তৃতীয় বারের জন্য ভারতের জাতীয় সঙ্গীত শোনা গেল। আরও একবার সবার ওপরে উড্ডীন হল তেরঙা। তা দেখে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি সিংহরাজ। এই মুহুর্তের সাক্ষী হওয়া তাঁর স্বপ্ন ছিল বলেও জানিয়েছেন আধানা।
|
মনীশের গ্রামে উৎসব
হরিয়ানার ফরিদাবাদের শাহুপুরা গ্রাম থেকে উঠে আসা মনীশ নারওয়াল টোকিও প্যারালিম্পিকের শুটিংয়ে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছেন। ১৯ বছরের প্যারা অ্যাথলিটের দুর্দান্ত সফলতায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছে তাঁর এলাকা। রাস্তায় নেমে নেচে-গেয়ে এই মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখলেন মনীশের পরিবারের সদস্যরা। ছেলের গর্বে গর্বিত তাঁর অভিভাবকরা। উৎসব শুরু হয়েছে সিংহরাজ আধানার গ্রামেও।

ফুটবলার হতে চেয়েছিলেন
টোকিও প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী মনীশ নারওয়াল ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু তিনি জানতেন না যে মাতৃগর্ভ থেকেই তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে এমন এক সমস্যা, যা আরোগ্য হওয়া সম্ভব নয়। অচিরেই অকেজো হয়ে যায় মনীশের ডান হাত। শেষ হয়ে যায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। তবু লড়াই চালিয়ে যান ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিট। নিজের বাঁ-হাতকেই শক্তি বানিয়ে বিশ্বজয় করার নেশায় মেতে ওঠেন মনীশ। বাবার অনুপ্রেরণায় ২০১৬ সালে তিনি প্যারা শুটিংয়ের অনুশীলন শুরু করেন। বল্লভগড়ের টেনএক্স শুটিং অ্যাকাডেমিতে চলে তাঁর অনুশীলন। অর্জুন পুরস্কার জয়ী মনীশের ঝুলিতে রয়েছে পিফোর মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ড। প্যারা শুটিং বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। প্যারালিম্পিক রেকর্ডও গিয়েছে তাঁরই ঝুলিতে।

মেসি ও বোল্টের ফ্যান
মনীশের বাবা দিলবাগ নারওয়াল নিজে এক কুস্তিগীর। ফলে ক্রীড়া মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা তিনি ভালোভাবেই জানতেন। তাই ছেলেকে তিনি প্যারা শুটিংয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। তবে মনীশ বরাবরই আউটডোর খেলতে পছন্দ করতেন। ফুটবলার লিওনেল মেসি ও স্প্রিন্টার উসেইন বোল্ট তাঁর পছন্দের ক্রীড়াবিদ। তাঁদের থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পান বলেও জানিয়েছেন মনীশ নারওয়াল।
ছবি সৌজন্যে সোশ্যাল মিডিয়া












Click it and Unblock the Notifications